
রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী বিভাগীয় শহরে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকো (Northern Electricity Supply Company Limited)-এর হেড অফিস বগুড়ায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নেসকোর অভ্যন্তরে কিছু প্রভাবশালী মহল হেড অফিস বগুড়ায় স্থানান্তরের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিভাগীয় শহর হিসেবে রাজশাহীতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস অন্য জেলায় স্থানান্তর করা হলে তা শুধু রাজশাহীর মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না, বরং এখানে কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেসকোর কার্যক্রম মূলত রাজশাহী বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত। ফলে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে হেড অফিস থাকা প্রশাসনিক ও যোগাযোগের দিক থেকে যৌক্তিক। হেড অফিস অন্য জেলায় সরিয়ে নেওয়া হলে সেবা ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
রাজশাহীর সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যদি সত্যিই এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবিলম্বে পর্যালোচনা করা উচিত। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নেসকোর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে নেসকোর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজশাহী বিভাগের নেতা জনাব মোঃ নজরুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন , নেসকোর বিভাগীয় অফিস ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে আছে । রাজশাহী বিভাগীয় শহর , এখানে বিল্ডিং আছে পরপর দুইটা , সম্পূন্ন সাজানো – গোছানো । অনেকগুলো কোয়াটার রয়েছে যেখানে নেসকোর কর্মকর্তা / কর্মচারীরা বসবাস করে । দুই দুইটা রেস্ট হাউস ও মেরামত কারখানা আছে । সবচেয়ে বড় সুযোগ সুবিধা হচ্ছে রাজশাহীতে বিমান বন্দর ও ট্রেন যোগাযোগ রয়েছে । উত্তরবঙ্গের রংপুর , দিনাজপুর , পঞ্চগড় ও ঢাকার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা যায় ।
তিনি বলেন , ১লা জানুয়ারি ২০১৮ সালের পর হতে যে সকল এমডি নিয়োগ করা হয়েছে তারা ঢাকায় নেসকোর একটা সাব – অফিস চালু করেছে । রাজশাহীর অফিসকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এটা একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়াতে লভ্যাংশ অনেক ভালো , এটা লাভের সাথে রান করছে । এ মুহূর্তে তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন , রাজশাহী ঐতিয্যবাহী পুরাতন শহর । এই অফিস যদি বিভিন্ন জেলা শহরে চলে যায় , তাহলে রাজশাহীর জনগণের জন্য এটা লজ্জার ব্যাপার । তাই তিনি নেসকোর হেড অফিস রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তর না হয় সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
৩রা মার্চ , ২০২৬ তারিখের ৮৫ নম্বর স্বারকে দেখা যায় , বিদ্যুৎ ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারজানা খানমের স্বাক্ষরিত পত্রে নেসকোর হেড অফিস রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়ে সম্ভাব্যটা যাচাইয়ের নিমিত্তে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ সানাউল হককে আহব্বায়ক ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ১ জন প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়েছে । কমিটি ১ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যটা যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন ।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক বাড়তে থাকায় রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ এখন সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্থানীয় মহলের প্রত্যাশা, উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল থাকবে এবং এ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তার দ্রুত সমাধান হবে।