1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মেসির রেকর্ড ছোঁয়া ম্যাচে দুরন্ত জয়ে বিশ্বকাপ শুরু আর্জেন্টিনার বাগমারায় শিক্ষক দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ। রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা ধামইরহাটে  বিস্ফোরক  মামলায় চেয়ারম্যান  গ্রেফতার। রাজশাহীতে ‘জেএফএ অনুর্ধ্ব-১৪ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ২০২৬’-এর উদ্বোধন রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ। রুয়েটের উপাচার্যের সাথে বিএইউইটির উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাত। আমের মৌসুমে রাজশাহীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বানেশ্বর হাটে কৃষক-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় রাজশাহীতে আরএমপি’র মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার; গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত একাধিক 

উন্নয়নের সূচকে অগ্রগতি, কিন্তু আলোহীন মনপুরা।

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫৫ বার পঠিত

 

জেলা প্রতিনিধি, ভোলা:

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরাতে। বরিশাল বিভাগের এই বিস্তীর্ণ উপজেলা প্রায় ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের; এখানে বসবাস করেন প্রায় এক লাখ মানুষ। উন্নয়নের নানা সূচকে অগ্রগতির কথা বলা হলেও বাস্তবে মনপুরা এখনো জাতীয় বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে রয়ে গেছে।

উপজেলার মোট পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটি—২নং হাজিরহাট ইউনিয়নে ওজোপাডিকো-র জেনারেটরনির্ভর বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। সেখানেও দিনে গড়ে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বাকি চারটি ইউনিয়নে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে পুরো উপজেলাই কার্যত সোলারনির্ভর। সূর্য ডোবার পরপরই মনপুরার অধিকাংশ এলাকা ডুবে যায় অন্ধকারে। বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি—সবখানেই সোলারের ক্ষীণ আলোই ভরসা। অনেক পরিবার এখনো কেরোসিনের বাতি ব্যবহার করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. নুরনবী বলেন, “দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে ব্যবসা চালানো সম্ভব না। ওজোপাডিকোর জেনারেটর সিস্টেমে বিদ্যুৎ চালাতে খরচ বেশি, তাই অনেক সময় বিকেলেই দোকান বন্ধ করতে হয়।” বিদ্যুতের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় কলেজ ও স্কুল শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার ব্যবহার, অনলাইন ক্লাস কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বড় বাধার মুখে পড়ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী তামজিদ সামি জানায়, “রাতে পড়তে বসলে আলো থাকে না। সোলারের চার্জ শেষ হয়ে গেলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের মনপুরায় বিদ্যুতের খুব প্রয়োজন।” বিদ্যুৎ সংকটে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও ভুগছে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম চালাতে সমস্যা হয় নিয়মিত। ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ওষুধ সংরক্ষণেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে গড়ে ওঠেনি বরফ কারখানা, কোল্ড স্টোরেজ কিংবা ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান।

মৎস্যনির্ভর এই অঞ্চলে বরফ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে তা অনুপস্থিত। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না। উপজেলার অধিকাংশ পরিবার নিজ উদ্যোগে সোলার প্যানেল ব্যবহার করছে। তবে তা দিয়ে সীমিত সময়ের জন্য আলো ও মোবাইল চার্জের সুবিধা মেলে; ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো সম্ভব হয় না।

স্থানীয়দের জোড়ালো দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সরকারি পর্যায়ে প্রকল্পের আলোচনা থাকলেও কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানা যায়নি।

মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের আওতায় আনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) নূর আহমদ বলেন, “মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রণালয়ের একটি টিম মনপুরা সফর করেছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ এগোচ্ছে।” দেশ যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা বলছে, তখনও একটি দ্বীপ উপজেলা জাতীয় গ্রিডের বাইরে রয়ে গেছে। প্রায় এক লাখ মানুষের জীবন, শিক্ষা ও অর্থনীতি সীমিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে— কবে জ্বলবে জাতীয় গ্রিডের আলো মনপুরায়? কবে শেষ হবে মনপুরার মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্দশা?

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD