
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহীঃ
রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলা-তে অবস্থিত ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ী দেশের অন্যতম মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই রাজবাড়ী ইন্দো-সারাসেনিক বা ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক অনন্য নমুনা হিসেবে পরিচিত।
📍 রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক থেকে মাত্র ৩০-৩২ কি.মি. দুরে অবস্থিত এই রাজবাড়ী, স্থানীয় পর্যটন ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করেছে এবং প্রতিদিন বহু দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করছে।
পুঠিয়া রাজবাড়ী মূলত একটি জমিদারি শহরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে নিলাম্বরকে রাজার উপাধি দিয়ে জমিদারি প্রদান করা হয়েছিল, এবং পরবর্তীতে এই জমিদারি ক্রমে উন্নত হয়ে একটি বৃহৎ রাজবংশে পরিণত হয়।
এখানে রয়েছে বিশাল রাজপ্রাসাদ ও সৌন্দর্যগ্রাহ্য দরজা-কাঠামো , পরিবেষ্টিত জলাশয় যেমন শিবসাগর ও গোবিন্দসাগর ,
প্রাচীন এবং মূর্তিকলা সমৃদ্ধ বিভিন্ন মন্দির
যেমন পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির, জগদ্ধাত্রী মন্দির, শিব মন্দির ইত্যাদি।
১৮৯৫ সালে নির্মিত এই রাজবাড়ীর স্থাপত্য, বিশাল উঠোন, মন্দিরসমূহ ও লোকশিল্পের নিদর্শনসমূহ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি স্থাপত্যশৈলীর এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
পুঠিয়া রাজবাড়ী-তে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আসেন; এখানে পর্যটন গ্রুপ, ফটোগ্রাফার ও ইতিহাস-প্রেমীরা বিশেষভাবে আগ্রহ দেখান। রাজবাড়ীর প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্যগত গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি বাংলাদেশে মুঘল-এলাকার খ্যাতনামা পর্যটনস্থানগুলোর মধ্যে একটি।
এছাড়া রাজবাড়ীর কিছু অংশে একটি মিউজিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ এবং সাহিত্যচিত্র প্রদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে দর্শনার্থীরা আরও গভীরভাবে ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।