
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
আন্দোলনের ইতিহাস, সংগ্রামের চেতনা আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে গড়া দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ শহরে যেন নেমে এসেছিল উচ্ছ্বাসের জোয়ার।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে শহরের বত্রিশ মোড় থেকে শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে জনস্রোত বইতে থাকে।
এই বিশাল আয়োজনে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক, এডভোকেট আবু আহমেদ ফয়জুল করিম মুবিন। তাঁর নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়৷
শহরজুড়ে বিএনপির জন্মদিন উদযাপন, প্রতিধ্বনিত হয় শ্লোগান
শোভাযাত্রা শুরুর আগেই বত্রিশ এলাকায় জমে ওঠে উৎসবের আমেজ। ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো রাস্তা, ঢাক-ঢোলের তালে তালে তরুণদের পদচারণা—সব মিলিয়ে শহর জুড়ে তৈরি হয় এক সম্প্রীতির রাজনৈতিক চিত্র।
শ্লোগানে শ্লোগানে কাঁপে শহরের বাতাস:
“শুভ শুভ শুভদিন, বিএনপির জন্মদিন – মুবিন ভাইয়ের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।”
শুধু স্লোগান নয়, সেইসঙ্গে ছিল চোখেমুখে দলীয় চেতনার দীপ্তি। বহু নেতা-কর্মীর হাতে ছিল মিনি পতাকা, কাঁধে ঝুলছিল “গণতন্ত্র মুক্ত করো” লেখা ব্যাজ।
নেতাকর্মীদের বিশাল উপস্থিতি, ছিলো একাত্মতা
এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা বিএনপির শত শত নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—
স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এনামুল হক উমর৷
যুবদল নেতা চন্দ্র সূত্রধর, কামরুজ্জামান পাবেল, মো. জুয়েল মিয়া
সাইফুল ইসলাম তুহিন, মীর সোহেল, কাজী পিয়েল, ইব্রাহিম খান লুদি, পিপুল চন্দ্র বণিক
যুব নেতা টিপু, রানা, পাবেল
ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কামরুল (সুলতানপুর ২নং ওয়ার্ড)
ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পিথুরাজ খান
রশিদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি
কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল
তাদের সবাই ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়, দলীয় স্লোগানে ও পদযাত্রায় অগ্রভাগে।
আলোচনা সভায় দলের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের বার্তা
শোভাযাত্রা শেষে পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। সেখানে বক্তারা তুলে ধরেন দলের অতীত গৌরব, বর্তমান সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।
এডভোকেট মুবিন বলেন:
> “বিএনপির এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের জন্য শুধুমাত্র উৎসব নয়, এটি একটি চেতনার নাম। আজকের দিন নতুন শপথ নেওয়ার দিন—গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারের দিন।”
তিনি আরও বলেন,
> “দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের অপেক্ষায়। বিএনপি সেই পরিবর্তনের শক্তি। আমাদের ঐক্যই হবে আগামী দিনের বড় শক্তি।”
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, প্রশাসনের প্রশংসা
এই বড় কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আয়োজকরা প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি, বরং প্রতিটি অংশেই ছিল শৃঙ্খলা ও দলীয় সৌহার্দ্যের নিদর্শন।
একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “গত কয়েক বছরে বিএনপির এমন শান্তিপূর্ণ ও গুছানো আয়োজন কিশোরগঞ্জে খুব কমই দেখা গেছে। এটা দলটির সাংগঠনিক পরিপক্বতার ইঙ্গিত দেয়।”
সাধারণ কর্মীদের কণ্ঠে: ‘বিএনপি মানে সংগ্রাম, আদর্শ, ঐক্য’
মিছিলে অংশগ্রহণকারী অনেক নেতাকর্মী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাদের জন্য অনুপ্রেরণার দিন।
একজন যুবদল কর্মী বলেন,
> “এই দল আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই করছে। আমরা গর্বিত, আমরা বিএনপির কর্মী।”
আরেকজন ছাত্রদল নেতা বলেন,
> “প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিএনপি মানে শুধু রাজনীতি নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি বিশ্বাস।”
শক্তিশালী বার্তা দিলো কিশোরগঞ্জ বিএনপি
৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি যে ঐক্য, গঠনমূলক নেতৃত্ব ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা উপস্থাপন করেছে, তা জেলার রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দলের নেতাকর্মীরা এই আয়োজনে নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছেন আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত হতে। তাদের বিশ্বাস—“বিএনপি আবারও জনগণের দল হয়ে ফিরবে।”