1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

ভালুকার মাছের মড়কে সর্বস্ব হারাচ্ছে খামারিরা পাশে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান মামুন

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৪ বার পঠিত

 

ইমন সরকার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

এ যেন এক নীরব বিপর্যয়, যেখানে মাছ নয়—মরে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, শ্রম আর জীবনসংগ্রাম।
বাংলাদেশের মাছ উৎপাদনের অন্যতম ঘাঁটি ময়মনসিংহের ভালুকায় গত ক’দিনে যেভাবে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে—তা শুধু একটি ‘দুর্যোগ’ নয়, বরং একটি জীবন-ভাঙার দলিল।

প্রচণ্ড তীব্র তাপদাহের মাঝে হঠাৎ বৃষ্টিপাত, তার ওপর মুরগির লিটার দিয়ে তৈরি বিষাক্ত অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের এক অদৃশ্য জাল যেন মাছের দম বন্ধ করে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলার পৌরএলাকাসহ ১১ ইউনিয়নে পুকুরসহ ছোট বড় সাড়ে সাতের হাজার মাছের খামার রয়েছে। তার মাঝে বড় খামারই রয়েছে দুই হাজার, ছোট খামার সাড়ে পাঁচ হাজার ও ১০ হাজার পুকুর রয়েছে। এখন অধিকাংশই এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক খামারেই কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা।

পূর্ব ভালুকার বাসিন্দা মৎস্য খামারী মাজহারুল ইসলাম জানান, “উপজেলার রাংচাপড়া গ্রামে অবস্থিত কাওরাইদ বিলে তার ২০ একর জমির একটি খামার রয়েছে। তাতে পাঙ্গাস ও দিশীয় প্রজাতীয় মাছ রয়েছে এবং মাছগুলো বিক্রির সময় হয়েছে। কিন্তু গরমে গ্যাস হয়ে বিপুর পরিমান মাছ মরে গিয়ে ভেসে উঠেছে।”

এমন কাহিনি শুধু তার নয়। ধাইরাপাড়ার নজরুল ইসলাম, ভাটগাঁও গ্রামের মোস্তফা কামাল সবার মুখে একই শব্দ: “শেষ হয়ে গেছি ভাই”।

ভালুকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছাইদুর রহমান বলেন—
“উপজেলায় ছোট বড় সাড়ে সাতের হাজার খামার রয়েছে। তীব্র তাপদাহে পানিতে ডিসলভড অক্সিজেন লেবেল কমে গিয়ে প্রায় খামারেই মাছ ভেসে যাচ্ছে। কিছু কিছু খামারে মারাত্মক অক্সিজনে সংকটের কারণে মাছ মারা যাচ্ছে। একই সাথে যে সকল খামারে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার হয় সেগুলোতে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমান অনেক বেড়ে যাচ্ছে এবং অক্সিজেন লেবেল কমে যাওয়ার ফলে মাছ ভেসে উঠছে এবং মারা যাচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামার সমূহ পরিদর্শন করে চাষীদের জরূরী করনীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচারনা চালানো হচ্ছে।”

তবে মাছচাষিদের একটি অংশ পোল্ট্রি লিটারের দায় সম্পূর্ণভাবে মানতে নারাজ। একজন অভিজ্ঞ চাষি বলেন,
“ভালুকায় বিল ছাড়া অধিকাংশ পুকুরে পোল্ট্রি লিটার খুব কমই ব্যবহার করা হয়। যেসব পুকুরে মাছ মারা গেছে, তার সিংহভাগেই পাংগাসের সাথে অতি ঘনত্বের মিশ্র চাষ করা হয়েছে। ফলে তাপমাত্রা বাড়লে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। জিওলাইট, চুন, পরিমিত খাবার ও পানির পরিবর্তন করতে পারলে দেশি মাছের মরণ রোধ সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন,
“পাংগাস ধরার পর পুকুরে থাকা দেশি মাছ মারা যাওয়া একটি সাধারণ বিষয়। তাই পাংগাস ধরার সাথে সাথেই দেশি মাছ বাজারজাত করা উচিত।”

এই অভিজ্ঞ চাষি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“আমি প্রায় ২০ বছর ধরে মাছ চাষ করছি। এখনও কোনো মৎস্য কর্মকর্তাকে মাঠে ভিজিট করতে দেখি নাই। কৃষি বিভাগ যেভাবে মানুষের ধারে ধারে যায়, ফিসারিজ বিভাগ তেমনভাবে সক্রিয় হলে ভালুকার মানুষ আরও বেশি উপকৃত হতো।”

এ বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ খামারিরা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও মাঠপর্যায়ে ফিসারিজ কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকাই চান।

এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলার নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্ল্যাহ আল মাহমুদ বলেন—
“অধিকাংশ ফিশারিতেই কম বেশি পোল্ট্রি লিটার ব্যবহার করার কারণে মড়ক অনেক বেশি হয়েছে! দায় শুধু প্রকৃতির নয়, আমাদেরও আছে। জেলার অন্যান্য উপজেলায় কথা বলে জানা গেছে, এত প্রকটভাবে (ভালুকা, গফরগাঁও এবং ত্রিশালের কিছু অংশের মতো) অন্যান্য জায়গায় মাছ মারা যায়নি। আসুন, সকলে মিলে এখনই সতর্ক হই।”

এই সংকটকালে ভালুকার মানুষের পাশে যে নামটি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা ও আস্থার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন —
আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মামুন,
সম্মানিত সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও আহবায়ক সদস্য, ভালুকা উপজেলা বিএনপি।

মানুষের দুঃসময়ে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই জননেতা বলেন—
“আমি আপনাদের ভাই / সন্তান হিসাবে / একজন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ব্যবসায়িক ব্যক্তি হিসেবে আমি বলতে চাই – আমাদের কোন করণীয় থাকলে বলুন, ডাকুন। আমরা বিগত বছরগুলোর মতোন ইনশাআল্লাহ আপনাদের পাশে আছি থাকবো।।”

তিনি আরও বলেন,
“প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারো হাতে নেই, তবে আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিক। আমাদের ফিসারি শিল্প রক্ষায় চাই সমন্বিত পরিকল্পনা ও সচেতনতা।”

ভালুকার মানুষ জানে, বিপদের দিনে যার ফোন নম্বরটা সবার আগে ডায়ালে আসে – তিনি হলেন আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মামুন।
প্রতিটি ক্রান্তিকালে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন এক নির্ভরতার ছায়া হয়ে।

যেভাবে আগে মানুষের পাশে ছিলেন, ঠিক সেভাবেই এখনো সবার পাশে থাকতে চান আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মামুন।
তিনি বলেন—
‘যেকোনো প্রয়োজনে শুধু জানালেই হবে, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, আগেও ছিলাম, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব।’
আজও তিনি দ্বার খোলা রেখেছেন ভালুকা উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য।

প্রকৃতি আগেই সিগন্যাল দেয়, কিন্তু আমরা তা বুঝতে দেরি করি।
সেই দেরির শাস্তি এখন ভালুকার মাছচাষিরা দিচ্ছেন তাদের সর্বস্ব হারিয়ে।
তবে এখনও সময় আছে।
যদি আমরা সত্যি চাই—এই মাছের রাজ্যে আবার প্রাণ ফিরুক,
তাহলে প্রয়োজন নেতৃত্বের সদিচ্ছা, প্রশাসনের সক্রিয়তা আর মানুষের প্রতি প্রকৃত দায়িত্ববোধ।
আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মামুন যে দায়িত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন,
সেটাই হওয়া উচিত ভবিষ্যতের পথনির্দেশনা।
আজকের শিক্ষা হোক—গ্যাসে নয়, উদ্যোগে উঠুক ভালুকা মাথা উঁচু করে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD