
মুজাহিদ শেখ, স্টাফ রিপোর্টার ঃ
ম্যানেজিং কমিটির সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট পুর্বপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারকে মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির সাবেক সভাপতি ও এক ছাত্র অভিভাবকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে। বিষয়ে সুপার নিজে বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি বরিশাট গ্রামের বাসিন্দা চৌধুরী রেজাউল হক মিন্টু, মাদ্রাসাটির ছাত্র অভিভাবক আজাদ মোল্লা ও দড়িবিলা গ্রামের বাসিন্দা আলী আজম মাষ্টার।
সুপার নুরুদ্দিন মৃধা স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে আনুমানিক বিকাল ৫.০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৫/৭ জন মিলে ঐ শিক্ষককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে লাঙ্গলবাধ বাজার এলাকার চাঁকদাহ ব্রীজের পাশ্বে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি লাথি মেরে চলে যাওয়ার সময় তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক মাদ্রাসার প্যাডে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় অভিযুক্তরা।
মাদ্রাসাটির প্যাডে চৌধুরী রেজাউল হক মিন্টুর ভাতিজা চৌধুরী জিয়াউল হক টুটুলের নাম লেখা ছিল। তারা পূর্বেও গোপন ভাবে মাদ্রাসার কমিটি তাদের পক্ষে নেওয়ার জন্য তালবাহানা করে আসছিল।
তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি বরিশাট গ্রামের বাসিন্দা চৌধুরী রেজাউল হক মিন্টুর পিতা চৌধুরী জহুরুল হক নামে মাত্র সভাপতি ছিলেন। তার অসুস্থতার দোহাই দিয়ে চৌধুরী রেজাউল হক মিন্টু দীর্ঘ দিন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। যে কোন বিষয়ে শুধু সাক্ষরটাই সভাপতি চৌধুরী জহুরুল হক সাহেব দিতেন। তা ব্যতীত সব কাজই তার ছেলে চৌধুরী রেজাউল হক মিন্টু করতেন।
মাদ্রাসাটির সাবেক সভাপতি জহুরুল হক চৌধুরী ততকালীন সময়ে ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারী নীতি বর্হিভুত ভাবে রেজুলেশনের মাধ্যমে মাদ্রাসার জেনারেল ফান্ড থেকে এক লাখ টাকা লোন হিসেবে নিয়েছেন এবং বর্তমানে মাদ্রসায় যে একাডেমিক ভবন রয়েছে সেখানে যে পুুরাতন টিনশেড ঘর ছিলো সেটি বিক্রয় করে ৩৫ হাজার টাকা নিলেও অদ্যবধি মাদ্রাসা ফান্ডে একলাখ পয়ত্রিশ হাজার টাকা ফেরত দেননি।
তা ছাড়া টিনশেড ঘরটি ৩৫ হাজার টাকা বিক্রয় করার কথা বলা হলেও বরিশাট গ্রামের সাবেক একজন সদস্য টিপুল মোল্লা বলেন, উক্ত টিনসেট ঘরটির দাম আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার বেশি।
এছাড়াও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মাগুরা জেলা পরিষদ থেকে মাদ্রাসার অনুকুলে প্রাচীর নির্মানের জন্য এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়ে প্রাচীন নির্মাণের রেজুলেশন করা হলেও অদ্যবধি কোন প্রাচীর নির্মাণ হয়নি এবং সে টাকার কোন হদিস নেই। এছাড়াও মাদ্রাসায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সাবেক এই সভাপতির বিরুদ্ধে।
এ সময় মাদ্রাসাটির সুপার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাদ্রাসার প্যাডে স্বাক্ষর করা কাগজ নিয়ে বিবাদীরা ভবিষ্যতে আমার বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে। আমি এই বিষয়টির উপর প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির বর্তমান এ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ জানান, মাদ্রাসাটির নির্বাচনী তফসিল পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করার পর চৌধুরী রেজাউল হক মিন্টুর নেতৃত্বে মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে জোড় করে পরিক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের নাম লিখে নেয় ও সুপারকে বাধ্য করে স্বাক্ষর করতে এটা সম্পুর্ণ বেআইনি নীতি বহির্ভূত । এটা শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিভ্রান্ত্রী তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আমাকে জানিয়েছেন আমি তাকে ধর্য ধরতে বলেছি। ধর্য ধরে সমাধানের চেষ্টা করছি। এছাড়াও সুপারকে যে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ নিয়ে সাবেক সভাপতি রেজাউল হক মিন্টুর সাথে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন আমি এখন একটু ব্যস্ত আছি পড়ে আপনাদের সাথে কথা বলবো।
অভিযোগের বিষয়ে শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃইদ্রিস আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি দেখতে হবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত কোন সভাপতি বা সদস্য কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে হুমকি দেওয়া বা মারধরের ঘটনা কাম্য নয়।তাছাড়া অর্থনৈতিক লেনদেন করার নিয়ম নেই। যদি করে থাকে সেটি সম্পুর্ণ বিধি বর্হিভুত।