
তারিকুল ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ
সপ্তাহের প্রতিটি বুধবার সকাল গড়িয়ে যখন ঘড়ির কাঁটা ১০ ছুঁয়েছে, তখনই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কোণায় শুরু হয় বইপ্রেমীদের এক ব্যতিক্রমী আয়োজন—”তারুণ্য লাইব্রেরী”। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে এই অস্থায়ী পাঠচক্র। হাতে হাতে বই আর চোখে স্বপ্ন—এই দৃশ্য যেন এক নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে ক্যাম্পাসজুড়ে।
লাইব্রেরীটি কোনো স্থায়ী ভবনের ভেতরে নয়, বরং মুক্ত আকাশের নিচে, ডায়নাচত্বর সংলগ্ন বটবৃক্ষের এক চিলতে ছায়ায়। ছোট্ট কয়েকটা বুকস্টল আর বইয়ের গন্ধেই গড়ে উঠেছে এই মননশীল আসর। সপ্তাহের একদিন হলেও, এখানে বইপাঠ শুধু পাঠেই থেমে থাকে না—এখানে গড়ে ওঠে চিন্তার বিনিময়, গঠনমূলক বিতর্ক, ও আন্তরিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক।লাইব্রেরীটি পরিচালিত হয় বিশ্ববিদয়্যালয়ের সেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্য কতৃক।
তারুণ্যের সভাপতি মুরসালিন ইসলাম তুরান বলেন “তারুণ্য’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘তারুণ্য লাইব্রেরি’। যা ২০১৮ সাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠচর্চার একটি সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে ১৫০০-এর অধিক বই, যেখানে সাহিত্য, ইতিহাস ও আত্মউন্নয়নসহ নানা বিষয়ের মূল্যবান বই।
প্রতি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে তারুণ্য লাইব্রেরি অবস্থান করে। আমরা বিশ্বাস করি, বইয়ের মাধ্যমে চিন্তার প্রসার ঘটে, আর এই চিন্তার জাগরণই তারুণ্য লাইব্রেরির মূল প্রেরণা। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এই প্রচেষ্টা আমাদের আগামীতেও চলবে।”
ইমন নামে একজন শিক্ষার্থী জানান,” বই পড়লে আমরা নতুন কিছু জানতে পারি। এই লাইব্রেরীর মাধ্যমে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়।অনেক সময় ডিপার্টমেন্ট এর বই পড়তে ভালো লাগেনা,তো তারুণ্য লাইব্রেরী বইগুলো ভিন্ন স্বাদ তৈরি করতে সহায়তা করে।”
তারুণ্যের সাবেক সাধারণ সম্পাদক “ফাবিয়া বুসরা বলেন তারুণ্য সংগঠন বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক কাজের পাশাপাশি জ্ঞানও বিতরণ করে থাকে। প্রতি বুধবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত লাইব্রেরির কার্যক্রম চলমান থাকে। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে এসে তাদের পছন্দ মত বই খুঁজে নিতে পারে।”