
মো:ফারুক আহমেদ ঘাটাইল টাঙ্গাইলঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ধর্ষণের শিকার তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া শিশুর পরিবার মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তের পরিবারের হুমকি-ধামকিতে রয়েছে। এমন অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী। গত ৩ জুন নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হয় ১১ বছরের শিশুটি। ঘটনাটি ঘটে ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের একটি গ্রামে।
সূত্র জানায়, গত ৬ জুন এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবককে আসামি করে ঘাটাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন শিশুটির বাবা। কিন্ত এতদিনেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি। উল্টো মামলা করায় আসামির পরিবার থেকে হুমকি দিচ্ছে ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবারকে।
মামলার বিবরণ ও শিশুর বাবার কাছ থেকে জানা যায়, মেয়েটিকে ছোট রেখে ওর মা অন্যত্র চলে যায়।
দাদির কাছেই বড় হচ্ছিল মেয়েটি। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। গত ৩ জুন বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকায় ঘরে একই ছিল শিশুটি। এই সুযোগে একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম শিশুটির ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
সে ওড়না দিয়ে শিশুটির হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। এ অবস্থায় শিশুর দাদি তাহমীনা বেগম (৬৫) বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ পান এবং ধাক্কা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে সাইফুলকে দেখতে পান। তখন সাইফুল তাহমীনা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে গত ৬ জুন এ ঘটনায় সাইফুল ইসলামকে (১৯) আসামি করে ঘাটাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন শিশুর বাবা। ঘটনার ১৪ দিন পরও আসামিকে গ্রেপ্তার হয়নি।
শিশুটির বাবা জানান, আসামির বাবা প্রবাসী এবং সমাজে অবস্থাশালী। তাই মামলা করায় আসামির চাচা জয়নাল আবেদিন (৫৫), আব্দুল কদ্দুস (৪৩) ও মফিজ উদ্দিন (৪৪)-সহ পরিবারের লোকজন আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মামলা আপস না করলে হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। শিশুর বাবা আরো জানান, মেয়েটি এখন ভয়ে আর ঘর থেকে বের হয় না। অন্য শিশুদের সঙ্গেও খেলতে যায় না। মাদরাসাতেও যেতে চায় না।
তবে হুমকি দেওয়ার কথাটি অস্বীকার করেন আসামি সাইফুল ইসলামের চাচা আব্দুল কদ্দুস।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ বলেন, স্থানীয়ভাবে আপস না করতে পেরে ঘটনার তিনদিন পর শিশুটির বাবা থানায় এসে মামলা করেন। মামলা করার পর আসামি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় আসামি ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে।