
রাজশাহী ব্যুরোঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান মোহাম্মদের দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত পহেলা মে জান মোহাম্মদকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় বদলি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আতাউর রহমানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের আদেশ দেন খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম। বদলির আদেশ পাওয়ার পরও জান মোহাম্মদ আতাউর কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করলে পরে ৭ মে আতাউর রহমান দায়িত্ব বুঝে নেন। ৯ মে শুক্রবার ছুটির দিনেও জান মোহাম্মদ তার দুর্নীতির তথ্য মুছে ফেলার জন্য আমনুরা খাদ্য গুদাম থেকে নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহম্মেদ কে জানান আমনুরা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেশমা ইয়াসমিন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক । কমিটির প্রতিবেদনে জানা গেছে বদলির পরও সংরক্ষিত খাদ্য গুদামে তার অবৈধভাবে প্রবেশ সহ অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং রেশমা ইয়াসমিনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদ্য যোগদানকৃত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহম্মেদ জেলার ওএমএস ডিলারদের দোকান পরিদর্শন করে দেখেন স্টেনসিল মার্ক ছাড়াই গুদাম থেকে চালের বস্তা সরবরাহ করেছে অথচ চালের বস্তায় স্টেনসিল মার্ক দেওয়া বাধ্যতামূলক। বস্তায় স্টেনসিল মার্ক না দিয়েই ৮৫ হাজার টাকা শ্রমিক বিল তুলে নেওয়া হয়। এ নিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা প্রদানসহ সঠিক জবাব দিতে বলেন। আরো জানা যায় স্টেনসিল মার্ক না দিয়েও প্রতি মাসেই প্রায় ৯০ হাজার টাকা শ্রমিক বিল অনুমোদন করতেন জান মোহাম্মদ। মিল মালিকরা বলেন ধান- চাল কেনা বাবদ জান মোহাম্মদ টনপ্রতি আমাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করতেন। এছাড়াও ডিও ছাড়ের সময় ২০০ টাকা, জিএস দেখিয়ে ওজনে কারসাজি,বস্তা সরবরাহকারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান মোহাম্মদকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে না পাওয়ায় তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি ।