1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বৈধ বিবাহকে ‘ধর্ষণ মামলা’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। রাজবাড়ীতে হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নিল মাদককারবারিরা মনোহরদীতে ৪০০ গ্রাম চোলাই মদসহ ১ জন আটক,৮ মাসের কারাদণ্ড ঋণের চাপ ও পারিবারিক দুশ্চিন্তায় বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন, ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু। রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহী থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ। রাজশাহীর বিনোদপুরে রেস্তোরাঁয় হামলা-ভাঙচুর, হাতবোমা বিস্ফোরণে পুলিশ সদস্য আহত পাঁচবিবিতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর উদ্বোধন। বাংলা টিফিন রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন। বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সিটি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে বিক্ষোভ, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা।

রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে উজাড় হচ্ছে তিন ফসলি কৃষিজমি: প্রশাসন নিরব

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২০১ বার পঠিত

রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে উজাড় হচ্ছে তিন ফসলি কৃষিজমি: প্রশাসন নিরব।

পবা প্রতিনিধি , রাজশাহী:

রাজশাহীতে ‘পুকুর খনন সন্ত্রাসীরা’ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে কৃষকের জমি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে চলছে পুকুর খননের মহাযজ্ঞ। ফলে জেলাজুড়ে উজাড় হচ্ছে তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমি। ইতোমধ্যেই জেলায় ৪০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমেছে। পাশাপাশি কৃষিজমিতে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এ কারণে দেশের শস্যভান্ডারখ্যাত রাজশাহীতে কমছে ফসল ও সবজি উৎপাদন। এমনকি ফলের বাগান কেটেও চলছে মৎস্য চাষের লক্ষ্যে পুকুর খনন। কৃষিজমি কমার কারণে সচ্ছল কৃষক ক্রমাগত আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। খাদ্যাভাবের শঙ্কাও রয়েছে। জেলার আটটি উপজেলায় একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। তন্মন্ধে পবা উপজেলা অন্য উপজেলার চেয়ে পুকুর খননের দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে  ।

 পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া মাঠে একই সঙ্গে পাশাপাশি তিনটি পুকুর খনন চলছে। এর ফলে প্রায় ৪০ বিঘা আবাদি জমির ফসল ও সবজি নষ্ট হয়েছে। এসব পুকুর খননের আগে জমিতে পেঁয়াজ, ভুট্টা, ধান, কাঁচামরিচ ও বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ ছিল। রোববার দুপুরে সরেজমিন এ চিত্র দেখা গেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেহেদী হাসান সাজু নামের এক যুবক। তিনি পুকুরের মাটি ট্রাক্টরে বহন করে বাইরে বিক্রি করছেন। পুকুর খননের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনটি পুকুর খনন করছেন নয়ন, প্রিন্স এবং সোহেল। এদের মধ্যে সোহেল বড়গাছি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। প্রিন্স ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতা এবং নয়ন বিএনপি কর্মী। তারা সবাই জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন হোসেনের সমর্থক।

মেহেদী হাসান সাজুর তথ্যের ভিত্তিতে  পবার ইউএনও আরাফাত আমিন আজিজকে তিনবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে  বলেন, ইউএনও স্যার বড়গাছি এলাকায় অভিযানে রয়েছেন । এ কারণে হয়তো ফোন ধরেননি। তবে পুকুর খনন বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে বড়গাছির কারিগরপাড়ায় চলছে ২০ বিঘা জমিতে আরেকটি পুকুর খনন। এটি খনন করছেন আরঙ্গ নামের একজন ব্যক্তি। আরঙ্গ পবার পুকুর খনন সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য।

বড়গাছি সাকোপাড়ায় চলছে ২২ বিঘা আয়তনের আরেকটি পুকুর খনন। এটি খননের সঙ্গে সম্পৃক্ত বড়গাছি হাট এলাকার বাসিন্দা বিএনপিকর্মী সুজন। পাশেই কালুপাড়া মোড়ে ১৭ বিঘা জনিতে আরেকটি পুকুর খনন চলছে।

নওহাটা পৌরসভার বসন্তপুর এলাকায় ২২ বিঘা জমিতে পুকুর কাটছেন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজাদ আলী। বড়গাছি কানপাড়ায় ২৫ বিঘা এবং পবার বাগসারা এলাকায় ৫০ বিঘা জমিতে পুকুর কাটছেন আজাদ। ৫ আগস্টের পর তিনি পবার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিনশ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করেছেন। আজাদ পবায় পুকুর খনন সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা বলে জানা গেছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোসা, উম্মে ছালমা গণমাধ্যমকে বলেন, কৃষিজমিতে পুকুর খনন বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষিজমির শ্রেণি বদল করে পুকুর খনন পুরোপুরি বেআইনি। কিন্তু সুযোগসন্ধানীরা অত্যন্ত কৌশলী। তারা পুকুর খনন করছে। ফলে রাজশাহীতে কৃষিজমি কমছে। কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফসল ও ফল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD