
মোকসেদ আলি ফুরফুরে, প্রতিপক্ষ কর্মী সংকটে
মোস্তাফিজুর রহমান, রাজশাহী ব্যুরো
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগে । এদিকে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে মোকসেদ আলী মন্ডলের (মোটরসাইকেল ) প্রতীকে জনসমর্থন ততোই বাড়ছে । এতে মোকসেদ আলী মন্ডলের প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থেকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন । অন্যদিকে প্রতিপক্ষ কর্মী সংকটে পড়ে বিপাকে রয়েছে , তাছাড়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত মোকসেদ আলী মন্ডল এমপি অনুসারী , মূল স্রোতের আদর্শিক পরীক্ষিত নেতৃত্ব এবং চেনা পথ । তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও জন প্রতিনিধি হিসেবে তারা ৫ বছরে প্রতিদিন যদি ৫ জন করে মানুষের উপকার করে থাকেন তাহলেও তারা ৫ বছরের ৯ হাজার ১২৫ জন মানুষের উপকার করেছেন । সেই বিবেচনায় এই মানুষগুলো তো ভোটের মাঠে এখনো তাদেরই পক্ষে রয়েছেন । আর যদি তারা দুটি নির্বাচন করে থাকেন তাহলে তাদের প্রায় ২০ হাজার রিজার্ভ ভোট রয়েছে। এই বিবেচনায় প্রতিপক্ষের কি আছে , কি বিবেচনায় মানুষ তাদের ভোট দিবেন ?
আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর , রাইকালী , গোপিনাথপুর , সোনামুখী , রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় , স্থানীয় জনগণ মোটরসাইকেল প্রার্থী ছাড়া বিপক্ষ প্রার্থীর নাম তারা জানেনা বা কোনদিন শুনে নাই । শালুককুড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তমিজ উদ্দিন এর স্ত্রী মোছাম্মদ মর্জিনা বেগম বলেন , অনেকদিন পর আমরা মনের মত একজন প্রার্থী পেয়েছি । এই গ্রামে আমরা মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোন প্রতীক চিনি না বা জানি না ।
রায়কালী বাজারের আওরঙ্গ ও তার স্ত্রী নাসরিন বলেন, মোকসেদ মাস্টার সাহেব একজন ভালো মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ইতোপূর্বে নির্বাচনে দাঁড়িয়েও ভোটাররা তার মূল্যায়ন করেন নি । যার কারণে তিনি অল্প ব্যবধানে নির্বাচিত হতে পারেন নি । এবার সুযোগ এসেছে , ভালো মানুষের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে । আমরা মোকসেদ মাস্টারকে উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ারে দেখতে চাই ।
আক্কেলপুর স্টেশন বাজারের বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, এবার মোটর সাইকেলকে ঠেকাই কে ?
প্রতিপক্ষ প্রার্থী এই হিসেবে মিলাতে গিয়ে কর্মী সংকটে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মনোবল হারিয়েছেন বলে নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা মনে করছে । এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা মোকসেদ আলী মন্ডলকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে একট্রা হয়ে মাঠে নেমেছেন । অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বোধোদয় হয়েছে । সরকারি দলের অদৃশ্য সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় ব্যতীত এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয় । এই বিবেচনায় আক্কেলপুর উপজেলার মানুষ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে কোন ব্যক্তি নয়, সরকারি দলের অদৃশ্য সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় চায়। কারন হিসেবে তারা বলছে , স্থানীয় রাজনীতি , অর্থনীতি , উন্নয়ন ইত্যাদি এমপিদের নিয়ন্ত্রণে । কাজেই এমপি অনুসারিদের বঞ্চিত করে এমপি বিরোধীদের ভোট দেওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা । অপরদিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছে , দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা অভিমান বা মোহের বসে নৌকার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল তারা সেই ভুল অনুধাবন করে এখন অনুতপ্ত । এবার তারা শপথ নিয়েছে , উপজেলা নির্বাচনে এমপি অদৃশ্যে সমর্থিত মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে তারা তাদের সেই ভুল শুধরাতে চায়।
মোকসেদ আলী মন্ডল এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি নির্বাচিত হলে জনগণের সেবা করে যাবেন, এবং আক্কেলপুর বাসীর মুখে হাঁসি ফোঁটাবেন ইনশাআল্লাহ, স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা সমূহ নির্মানের ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন অধিকহারে। রাস্তা ঘাট পাকাকরনের কাজ করবেন, তিলকপুরবাসীর অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষা তিলকপুরকে ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা । তিনি নির্বাচিত হলে জনগণের সকল আশা আকাঙ্ক্ষা সরকার বাহাদুরের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন । তাছাড়া আক্কেলপুরকে আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন এটা তার প্রত্যাশা।