
খাদ্যজনিত অসুস্থতা ও স্বাস্থ্য বিপত্তি নিরসনে খাদ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।
_____________রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে “খাদ্যজনিত অসুস্থতা ও স্বাস্থ্য বিপত্তি নিরসনে খাদ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব : প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ” বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে “খাদ্যজনিত অসুস্থতা ও স্বাস্থ্য বিপত্তি নিরসনে খাদ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব : প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ” বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ খাদ্য মন্ত্রনালয়ের অধীন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মেট্রোপলিটন কার্যালয় রাজশাহীর আয়োজনে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল এগারোটায় বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল। প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
এসময় প্রবন্ধ রচনা উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) ড. মোহাম্মদ মোস্তফা। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, খবরের কাগজ, ছাপা কাগজ, লিখা জাতীয় কাগজে ব্যবহৃত কালিতে ক্ষতিকর রং, পিগমেন্ট ও প্রিজারভেটিভস থাকে যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়াও পুরোনো কাগজে রোগসৃষ্টিকারী অনুজীবও থাকে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। কাগজের ঠোঙ্গায় বা কাগজে মোড়ানো খাদ্য নিয়মিত খেলে মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ ও কিডনীরোগসহ নানাবিধ রোগের সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’র ধারা উপধারা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পথ খাবার ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে খাদ্য স্পর্শক প্রবিধানমালা, ২০১৯ অনুসরণ করে পরিস্কার ও নিরাপদ ফুডগ্রেড পাত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সেমিনারে প্রধান অতিথি ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, মানুষের ৫টি মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য প্রথম। এই খাদ্যের কারনে মানবদেহের বিভিন্ন রোগ বালাই হয়ে থাকে। এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই নিরাপদ খাদ্য গ্রহন করতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের জন্য সরকার আলাদা সংস্থা তৈরি করেছে। সরকারের এই সংস্থাটিকে সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর বক্তব্যের মাঝে বিভিন্ন গল্প উদাহরন হিসেবে নিয়ে খুব চমৎকার বিশ্লেষনমুলক বক্তব্য উপস্থাপন করে সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব আফিফান নজনু, বিএসটিআই এর উপ পরিচালক সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্বিবদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এর সহকারি অধ্যাপক সাজু সরদার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী সহকারি পরিচালক ফজলে এলাহী, চেম্বার অব কমার্স রাজশাহী এর সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ হাসান আখতারসহ সরকারি অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।