1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন

দেশে উৎপাদিত ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি পণ্যের অর্ধেকই তৈরী হচ্ছে ঝিনাইদহে। নয়া কণ্ঠ

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৪৭ বার পঠিত

দেশে উৎপাদিত ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি পণ্যের অর্ধেকই তৈরী হচ্ছে ঝিনাইদহে

সুমন হোসেন মহেশপুর ঝিনাইদহ

ভারতের একচেটিয়া বাজার টপকে দেশের অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুরের ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি পণ্য। এক সময়ের শতভাগ আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে বর্তমানে এই শিল্পে দেশে যে ২০ শতাংশ ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি তৈরি হচ্ছে তার অর্ধেকের জোগান আসছে ঝিনাইদহ থেকে। দেশীয় মার্কেটে ইমিটেশন গহনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বছরে ঝিনাইদহ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার গহনা। প্রতি মাসে এখানে ২০ লাখ জোড়া গহনা তৈরি করছে এ শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা। এলাকাটি এখন ইমিটেশন পল্লী হিসাবে পরিচিত পাচ্ছে।

এখানকার ৩ হাজারের বেশী পরিবারে কারিগরের সংখ্যা ৬হাজারের বেশী যার অর্ধেকই নারী।কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় ভারত সীমান্তবর্তী জেলাটিতে বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও।

ছোট ছোট দলবেঁধে বসে ছাঁচে আর ডিজাইনে কেউ কেউ গলাচ্ছেন নানা ধাতব পদার্থ, কারো মনোযোগ নকশাতে, কারো বা হাতে চলছে গয়নার চূড়ান্ত ডিজাইন। কেউ আবার পুঁতি সাজাচ্ছে কোথাও বা চলছে স্বর্ণের সোনালি রঙের কাজ। কিভাবে ১টি সাধারণ ধাতব অলংকারকে নানা আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে ইমিটেশন জুয়েলারিতে রূপ নিচ্ছে, সেটিও রপ্ত করেছে এই এলাকার বাসিন্দারা। শিল্পের স্বীকৃতিসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি, কারিগরি সহায়তা আর উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে নিজস্ব ডিজাইনের নিপুণ কারুকার্য খচিত এসব গহনা দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরের বাজারে রপ্তানি সম্ভব। এমনটি আশা করছে ইমিটেশন গহনার মালিক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী আর কারিগররা ।

দেশীয় উদ্যোক্তারা অবশ্য বলছেন, চীন ও ভারতের উন্নত ডিজাইন ও অলংকারের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়লেও দিন পাল্টাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের এসইপি প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ আর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেকটাই বদলেছে ইমিটেশন জুয়েলারির উৎপাদনের ধরণ। তবে আমদানি নির্ভর এই শিল্পের কাঁচামাল ও কেমিক্যাল সহজলভ্য করার দাবি ব্যবসায়ী- উদ্যোক্তাদের।

ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারির একজন দক্ষ কারিগর গৃহবধূ সোনিয়া খাতুন। বাড়ি বসেই গহনা তৈরির কাজ করে মাসে ৮হাজার টাকার বেশী আয় করেন, নিজে আয় করেন ফলে অর্থের প্রয়োজন হলে স্বামী-শ্বশুরালয়ে হাত পাতা বা চেয়ে থাকতে হয় না। তবে তার পেছনের গল্পটি খুব একটা সহজ ছিল না। মহেশপুরের নওদাগ্রামে বিয়ের পর স্বামী মাসুম পারভেজের সংসারে এসে দেখেন স্বামী-শ্বশুরালয়ের অনেকেই গহনা তৈরির কাজ করছে, তবে তাকে এসব কাজে উৎসাহ না দিয়ে বলা হতো ‘তুমি পারবে না, পারবে না’, পারবো না কেন এমন জেদ থেকেই সোনিয়া এখন স্বাবলম্বী আর দক্ষ কারিগর।

একই গ্রামের রেশমা বেগম তার বাড়িতে এমন গহনার কাজ করছেন গত ৭বছর ধরে। আগে সংসারের পাশাপাশি অন্যান্য কাজ করতেন তবে গহনা তৈরির কাজ শেখার পর এখন এটিই তার নিজস্ব ব্যবসা হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন। তার প্রতিদিনের আয় ৪শ টাকা। একটি বে-সরকারী সংগঠন থেকে পেয়েছেন নানা প্রশিক্ষণ আর সহায়তা।

আর গত ১৫ বছর ধরে স্বামী-সন্তান সহ ময়না খাতুনের পুরো পরিবার গহনা তৈরি ও কেনা-বেচার সাথে যুক্ত। অনেকগুলো কারিগরও তাদের বাড়িতে গহনা তৈরির পেশাতে যুক্ত।

এমন গল্প শুধু সোনিয়া, রেশমা বা ময়না খাতুনের নয় মহেশপুরের ৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার হাজার হাজার নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প। প্রশিক্ষণ আর সহায়ক কর্মপরিবেশে কেউ হয়েছেন দক্ষ কারিগর, কেউ বা উদ্যোমী অদম্য উদ্যোক্তা আবার কেউ বা ঝানু ব্যবসায়ী, এ যেন রূপকথার এক ইমিটেশন পল্লীর গল্প।

ইমিটেশন পল্লীর ইমরান সিটি গোল্ডের কারখানা মালিক ও ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন জানান, অসংখ্য বেকার তরুণ, শিক্ষিত যুবক আর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে ইমিটেশন বা সিটিগোল্ডের কারখানায় কাজ করে বাড়তি উপার্জন করছে। কেউ সংসারে সহায়তা করছে, কেউ পুরো সংসার চালাচ্ছে এমন কাজের সাথে যুক্ত হয়ে।তিনি জানান মহেশপুর উপজেলার আজমপুর, মান্দারবাড়িয়া ও নাটিমা এই ৩ ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম ও পৌরসভা জুড়ে ইমিটেশন পল্লীর বিস্তৃতি ।

বাংলাদেশে একটা সময়ছিল যখন নারীদের গহনা বলতে মূলত স্বর্ণ বা রুপার অলংকারই বোঝানো হত। সময়ের সাথে সাথে স্বর্ণ বা রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে চাহিদা বাড়তে থাকে ইমিটেশন বা প্লেটিং করা গহনার। আরোহী সিটি গোল্ড হাউজের কারখানা মালিক সামাদ হোসেন জানান, আগে দেশের সর্বত্র ইমিটেশনের যে গহনা পাওয়া যেত তার বেশিরভাগই ঢাকার সাভারেরভাকুর্তা ও বগুড়ার কারিগরদের হাতে তৈরি।তবে বর্তমানে ঝিনাইদহের মহেশপুরের ইমিটেশন পল্লী দাঁড়িয়ে গেছে শক্ত অবস্থানে।কয়েক বছরের ব্যবধানে দেশে উৎপাদিত ৫০ শতাংশের বেশী ইমিটেশন জুয়েলারি এখন এই জেলাতেই তৈরী হয়। বিশেষ করে দুলের জন্য ঝিনাইদহের ইমিটেশন পল্লী বিখ্যাত দেশজুড়ে। ঢাকা, রাজশাহী, নাটোর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ সহ সারা দেশে এখানকার ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি পণ্য যায় বলে জানান ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা।

আলআমিন সিটি গোল্ডের মালিক আমিনুর রহমান জানান, দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকার ব্যবসায়ী মহেশপুরে আসে সিটি গোল্ড বা ইমিটেশন জুয়েলারি কিনতে, আবার ফোনে বা অনলাইনে অর্ডার দিলেও তা পৌঁছে দেয়া হয় সেসব প্রতিষ্ঠানে। তার কারখানায় ৪জন শ্রমিক রয়েছে যাদের বেতন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।

ইত্যাদি স্টোর শোরুমের ম্যানেজার মাসুদ রানা জানান, স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের উঁচু তালার মানুষ এই ইমিটেশন গহনা ব্যবহার করে। হাজার হাজার কোটি টাকার সেই ইমিটেশন গহনা এতোদিন প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় কোম্পানিগুলোর দখলে ছিল।তবে এখন ভারতের বাজার কমে যাওয়ায় তারা কৌশল বদলে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আর অটোমেশনে ইমিটেশন গহনা তৈরি করে বাংলাদেশের বাজার দখলের চেষ্টা করছে। খুব অল্প সময়ে বেশি আইটেমের গহনা তৈরি করে মার্কেটে দিচ্ছে ।

ভারতের অটোমেশন বা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির তৈরি গহনা দেশের বাজারে আসলেও, বাজার খুব একটা দখল করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মহেশপুর ইমিটেশন পল্লির যশোর কালার হাউজের মালিক উদ্

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD