থার্টি ফার্স্ট নাইট পালনে ইসলাম কতটুকু বৈধতা দেয়?
——————–
মোস্তাফিজুর রহমান ঃ রাজশাহী ব্যুরো
***থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন কি ইসলাম সমর্থন করে ?
অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাঃ এ রাত্রিকে কেন্দ্র করে চলে অশালীন ও বেহায়াপনার মহোৎসব। যুবতীরা অশালীন ও অর্ধ নগ্ন পোশাক পরিধান করে অবাধে চলাফেরা করে। যা ইসলাম সমর্থন করে না ।
অথচ এ প্রসঙ্গে নবী (সা.) বলেন, ওইসব নারী যারা হবে পোষাক পরিহিতা কিন্তু প্রায় নগ্ন। যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা বক্র উঁচু কাঁধ বিশিষ্ট উটের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। (সহিহ মুসলিম: ২১২৮) যা ইসলাম সমর্থন করে না ।
বিজাতীয় সাদৃশ্যঃ থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বিধর্মী বা বিজাতীয় সংস্কৃতি। এ রাত্রিতে ফোন / মোবাইল কলে ও ম্যাসেজের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো, আতশবাজি, পটকাবাজি, ফ্যাশন শো, ফায়ার প্লে, ট্যাটো বা উল্কা অংকন, ডিজে পার্টি ও কনসার্ট, নেশা সেবনসহ বিজাতীয় সংস্কৃতির সাথে সাদৃশ্য রাখে। ইসলাম এটি কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। যা ইসলাম সমর্থন করে না ।
রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলো সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। (আহমদ, আবু দাউদ-৩৫১২, মিশকাতঃ ৪৩৪৭) যা ইসলাম সমর্থন করে না ।
যুব সমাজকে ধ্বংস ও নারী সমাজ নষ্ট করার নীল নকশা: যুব সমাজকে ধ্বংস ও নারী সমাজকে নষ্ট করার জন্যই থার্টি ফার্স্ট নাইট বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে। যা ইসলাম সমর্থন করে না ।
২০০০ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর গুলশানে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকারী এক তরুণীকে কিছু মাতাল যুবক শ্লীলতাহানি করে ও তার শরীরের বেশীর ভাগ কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
আর ২০০১ সালের শাওন আখতার বাধনের ক্ষত-বিক্ষত দেহ কে না দেখেছেন? আরও কত বাধন। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় থার্টি ফার্স্ট নাইট একটি যৌন উৎসব। যা তাদের জন্য অসম্মান জনক। যা ইসলাম সমর্থন করে না ।
অথচ, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তোমরা যেনার নিকটবর্তী হয়ো না। (সুরা বনী-ইসরাইল: ৩২)
অন্যত্র আছে, (হে নবী!) আপনি (মুমিনদের) বলে দিন: আমার পালনকর্তা সব ধরনের অশ্লীল বিষয়গুলো হারাম করেছেন। (সুরা আরাফ ৩৩)
সকলের প্রতি আহবানঃ পরিশেষে সকলের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, যেনা, মদ্যপান ও অমুসলিমদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণের এই নিকৃষ্ট সংস্কৃতিকে চিরদিনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিলীন করা চাই। যা ইসলাম বহির্ভূত ।
এ লক্ষ্যে সকল মুসলিমকে সীসা ঢালা প্রাচীরের মত অবস্থা তৈরী করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা ও অন্যদেরকে এই বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে জান্নাত লাভ করার জন্য আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। (সুরা আত-তাহরীম: ৬) সংগৃহীত।।