
ফুলবাড়ী( কুড়িগ্রাম) উপজেলা প্রতিনিধি
ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় জছিমিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। মূলত জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হয়, যা দিবসটির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এবং জাতীয় ইতিহাসের সঠিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে। তবে আয়োজক সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়েছে, তা আগামীতে দেশাত্মবোধক কার্যক্রম আরও বেগবান করবে। বিদ্যালয়ের মাঠ জুড়ে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি এবং তাদের শিল্পকর্মে ফুটে ওঠা বীরত্বগাথা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে এক বিশেষ আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে, যা মূলত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।
আয়োজনটি সফল করতে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় দিবসের প্রতিটি কর্মসূচি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যেও জাতীয় সংহতি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জাতীয় দিন পালনে স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ঐকমত্য বজায় রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
উপসংহারে বলা যায়, ফুলবাড়ীতে পালিত এই দিবসটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতীয় মূল্যবোধ চর্চার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে তরুণদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। এই ধরনের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা আগামী প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের বীজ বপনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এবং স্থানীয় জনজীবনে জাতীয় সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রশাসনের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।