
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৭ নম্বর সরল ইউনিয়নে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাইন্স ক্লাব অব ঢাকা মিডসিটি ক্রেডেন্সের উদ্যোগে আয়োজিত এ শিবিরে শত শত মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। সরল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হামজা কন্ট্রাক্টর বাড়ি (ডিসির বাড়ি) প্রাঙ্গণে এ চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চোখের চিকিৎসা নিতে ভিড় করেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি- লাইন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫ বি-২, বাংলাদেশের আওতাধীন লাইন্স ক্লাব অব ঢাকা মিডসিটি ক্রেডেন্সের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আরিফুল কবির চৌধুরী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটির সার্বিক সৌজন্যে ছিলেন মোহাম্মদ রিদুয়ানুল কবির চৌধুরী (রিদু)।
বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা
চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং ছানি অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে না পারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ উদ্যোগ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসাসেবা পেয়ে সন্তুষ্ট রোগীরা
বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন শিবিরে আসা রোগীরা।
চিকিৎসা নিতে আসা ৬০ বছর বয়সী রোগী বলেন, “আমার চোখে ছানি পড়েছিল। টাকার অভাবে এত দিন ডাক্তার দেখাতে পারিনি। বাড়ির কাছে এমন ফ্রি ক্যাম্প হওয়ায় সহজেই ডাক্তার দেখাতে পেরেছি এবং ওষুধও পেয়েছি।”
৫০ বছর বয়সী মহিলা বলেন, “বিনা খরচে চোখ পরীক্ষা করিয়েছি চিকিৎসক ওষুধ দিয়েছেন এবং ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমন মহতী উদ্যোগ নেওয়ায় আয়োজক ও অতিথিদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি স্থানীয়দের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। বিশেষ করে চোখের সমস্যায় ভোগা প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার এ আয়োজন ছিল আশাব্যঞ্জক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এলাকার আরও বেশি অসহায় মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।