
মো:সুজন আহমেদ (সাভার উপজেলা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সৈয়দ আলভী (৩০), মো. মামুন (৩৪) ও জহিরুল (২৭)। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকায় জাহানারা বেগমের মালিকানাধীন একটি অটোগ্যারেজে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সৈয়দ আলভী আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকার মৃত ফিরোজ আহমেদের ছেলে, মো. মামুন উত্তর আউকপাড়া এলাকার মেছের হাওলাদারের ছেলে এবং জহিরুল পটুয়াখালীর বাউফল থানার নওমালা এলাকার শহিদুলের ছেলে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আউকপাড়া আদর্শগ্রামের ওই অটোগ্যারেজে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছেন বলে জানতে পারে এসআই শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে ডিউটিতে থাকা ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ডিবি উত্তরের ওসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনজনকে আটক করে তাঁদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা পিস্তলটি লোহার তৈরি ও কাঠের বাটযুক্ত। কাঠের বাটসহ অস্ত্রটির কোনাকুনি দৈর্ঘ্য সাত ইঞ্চি। এর গায়ে ইংরেজিতে ‘TTA’ ও ‘ALY’ লেখা খোদাই করা রয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার সৈয়দ আলভীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা রয়েছে। মো. মামুনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে দুটি এবং অন্যান্য ধারায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে। জহিরুলের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি ও চুরির দুটি মামলা রয়েছে।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, অপরাধ দমনে ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে, কী উদ্দেশ্যে তাঁদের কাছে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।