
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ হাসান খান:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদী পারাপারের অপেক্ষায় আটকে আছে শতাধিক যানবাহন। ফেরী ঘাট সংকট ও ফেরির সংখ্যা কম থাকায় ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কে প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে সাতটি ফেরি চলাচল করছে। এর মধ্যে চারটি বড় এবং তিনটি ছোট ফেরি। তবে সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি—৪ ও ৬ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। ফলে সীমিত সংখ্যক ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে গিয়ে ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি ও নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, দুপুর ২:০০ টা থেকে ৩:০০ টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
ঘাট সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের মেরামত কাজ চলমান থাকার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।
ঘাটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা কয়েকজন চালক জানান, ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পারাপারের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত ঘাটের মেরামত কাজ শেষ করে বন্ধ থাকা ঘাটগুলো চালু করা না হলে যানজট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, তীব্র স্রোতের কারণে ঘাটের ফিঙ্গারে ফাটল দেখা দেয়। সেটি মেরামতের সময় ভেতরের গার্ডারেও ফাটল ধরা পড়ে। বর্তমানে ফিঙ্গারের পাশাপাশি গার্ডার মেরামতের কাজও চলছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, মো. সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমানে ৪ ও ৬ নম্বর—এই দুটি ফেরিঘাট সচল রয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সাতটি ফেরি চলাচল করছে। এর মধ্যে চারটি বড় ও তিনটি ছোট।
৩ নম্বর ঘাটের বিষয়ে তিনি বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফিঙ্গারে ফাটল দেখা দিয়েছিল। সেটি মেরামতের সময় ভেতরের গার্ডারেও ফাটল পাওয়া যায়। বর্তমানে গার্ডারসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিনিট ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল শুরু হয়।