1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

৩৩ টাকায় আপেল, ২৮ টাকায় মরিচ আমদানি: ১২৫ কোটি টাকার লেনদেনে অর্থ পাচারের সন্দেহ।

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

মাত্র ৩৩ টাকা কেজি দরে আপেল এবং ২৮ টাকা কেজিতে কাঁচামরিচ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে, যা দেশের বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। এভাবে ভারত থেকে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার পণ্য আমদানির ঘটনায় অর্থ পাচারের সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠান গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ গত তিন বছরে মোট ২৩১টি এলসির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক–এর ইমামগঞ্জ শাখার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ১৭৪টি এলসি খোলা হয়। এছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকেও এলসি খোলা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমে তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, আপেল প্রতি কেজি ২৭ সেন্ট (প্রায় ৩৩ টাকা) এবং টমেটো ও কাঁচামরিচ ২৩ সেন্ট (প্রায় ২৮ টাকা) দরে আমদানি দেখানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে এই দামের বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

তদন্তে আরও জানা গেছে, যেই ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে এসব পণ্য আমদানির তথ্য দেখানো হয়েছে, তারা মূলত শাড়ি, থ্রি-পিস ও ইমিটেশন গহনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফলে কৃষিপণ্য আমদানির বিষয়টি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

 

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে দেশে আপেল ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেই তুলনায় আমদানির ঘোষিত দর অস্বাভাবিকভাবে কম।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক–এর এক কর্মকর্তা জানান, কম দামে আমদানি দেখানোর মাধ্যমে আন্ডার ইনভয়েসিং করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে এবং বাকি অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে অতিরিক্ত উৎপাদন এবং নিম্নমানের পণ্যের কারণে কম দামে আমদানি সম্ভব হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

আমদানিনীতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগে রয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD