
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ পহেলা বৈশাখ। এই উৎসবকে ঘিরে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজন করেছিল এক অভূতপূর্ব উৎসবের। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে সমিতির নিজস্ব ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিণত হয়েছিল প্রবীণ ও নবীন আইনজীবীদের এক অকৃত্রিম মিলনমেলায়। পরিবারের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় পুরো চত্বর হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। পেশাগত জীবনের আইনি লড়াই আর ব্যস্ততার ক্লান্তি ভুলে দিনটি ছিল নির্মল আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার।
সভাপতির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সংহতির বার্তা:
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বলিষ্ঠ ও সুযোগ্য সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলু। তিনি তার বক্তব্যে নববর্ষের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে আইনজীবীদের মধ্যে পেশাগত ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। সভাপতি লিয়াকত আলী খান বুলু অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, বৈশাখ আমাদের সকল জড়তা ও সংকীর্ণতা জয় করে নতুনের পথে এগিয়ে যাওয়ার অফুরন্ত শক্তি জোগায়। অনুষ্ঠানজুড়ে তার আন্তরিক অভিভাবকত্ব এবং উৎসাহমূলক উপস্থিতি সাধারণ আইনজীবী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে বিশেষ অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
অতিথিদের আগমন ও হৃদতাপূর্ণ কুশল বিনিময়:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন ফরিদপুর জেলা জজ মোঃ জিয়া হায়দার। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়েই উৎসবের রঙে একাত্ম হয়ে যান এবং উপস্থিত নবীন-প্রবীণ সকল আইনজীবীর সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল যখন তিনি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলু-র একমাত্র নাতি মুন্সী সায়েম আব্দুল্লাহর সাথে পরিচিত হন এবং পরম স্নেহে তার খোঁজখবর নেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উৎসবের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন প্রবীণ আইনজীবী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদারেস ইছা সহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সাংস্কৃতিক মূর্ছনায় মুগ্ধ আইনজীবী পরিবার:
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ জসিম উদ্দিন মৃধা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মূল আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন। এর পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, যার চমৎকার সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও আপ্যায়ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান টিটো। আইনাঙ্গনের গম্ভীর পরিবেশ ছেড়ে এদিন আইনজীবীরা মেতে ওঠেন গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণায়। বিশেষ করে আইনজীবী ও তাদের পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের পরিবেশিত নাচ ও গান উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক মঞ্চটি যেন এক এক টুকরো ছোট বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল।
র্যাফেল ড্র ও উৎসবের আনন্দঘন সমাপ্তি:
অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে আয়োজিত হয় সবার প্রতীক্ষিত আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। ২০টি আকর্ষণীয় ও মূল্যবান পুরস্কারের এই ড্র নিয়ে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে ছিল টানটান উত্তেজনা। বিজয়ী ২০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় আনন্দধ্বনি আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। সবশেষে, এক উৎসবমুখর পরিবেশে মধ্যাহ্নভোজ ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার মাধ্যমে এই সার্থক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজক কমিটি এবং সমিতির সকল সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই নববর্ষ উদযাপন ফরিদপুরের সামাজিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।