
মোঃ রাজিবুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন জাহান (২১) নামের ওই শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত শারমিন জাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন।
ঘটনার বিবরণ ও স্বামীর ভাষ্য
নিহতের স্বামী ফাহিমের দাবি অনুযায়ী, রবিবার সকালে তাদের দুজনেরই মোবাইল কেনার জন্য ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শারমিন শারীরিকভাবে অসুস্থ (লো ব্লাড প্রেসার) বোধ করায় ফাহিম একাই ঢাকা যান। ঢাকা থেকে শারমিনকে একাধিকবার মেসেজ দিলেও কোনো উত্তর পাননি তিনি। এদিকে শারমিনের মা তার মেয়েকে ফোনে না পেয়ে ফাহিমকে কল করেন।
দুপুর ২টা থেকে ৩টার দিকে ফাহিম বাসায় ফিরে দেখেন সামনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে বাড়িওয়ালার পরামর্শে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। ভেতরে ঢুকে মেঝেতে শারমিনের রক্তাক্ত ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি ডাকাতি?
পরবর্তীতে বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় শারমিনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফাহিম জানান:
বাড়িতে যাওয়ার জন্য গোছানো লাগেজটি ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল।
ঘটনার পর থেকে শারমিনের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপটি নিখোঁজ রয়েছে।
এসব আলামতের ভিত্তিতে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তা নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাশিদুল আলম জানান, শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আনা হলে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। সাভার ও আশুলিয়া থানাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন:
পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবি ও সিআইডিকে তলব করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহতের সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।