
স্টাফ রিপোর্টার: রিমন হোসেনঃ
দেবিদ্বারে সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির একাধিক সুবিধা তথ্য গোপন করে গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজের পরিবারকে অসচ্ছল ও হতদরিদ্র হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্প থেকে আর্থিক অনুদান ও উপকরণ সংগ্রহ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণ/অনুদান সহায়তা কর্মসূচি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা কর্মসূচি এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের গ্রামীণ সঞ্চয় ও প্রণোদনা সুবিধা সহ অসংখ্য প্রকল্পের আওতায় নিজের পরিবারকে অসচ্ছল দেখিয়ে সুবিধা নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মসূচিতে নামে-বেনামে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সহায়তা গ্রহণ করেছেন তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ও বসুন্ধরা শুভসংঘ-এর উদ্যোগে দেবিদ্বারে অসচ্ছল নারীদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের খবর প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন নারীকে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তালিকায় সাংবাদিক বাশারের মেয়ে আয়শা রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে তার নামে বরাদ্দকৃত সুবিধা থেকে চারটি সেলাই মেশিন সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের পরিবারের সদস্য কিভাবে অসচ্ছল নারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেন এবং কিভাবে ২০টি সেলাই মেশিনের মধ্যে চারটি তার নামে গ্রহণ করা সম্ভব হল? এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন দেবিদ্বারবাসী।