1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ১ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা আরও জোরদারের নির্দেশনা রাসিক প্রশাসকের পত্নীতলায় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির সেমিনার ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত। মৎস্যখাতের উন্নয়নে বালিয়াকান্দিতে ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। শ্যামলতা প্রথম বর্ষার ভালোবাসা  চট্টগ্রাম আনোয়ারায় মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। বর্ষার প্রথম দিন আজ । কালুখালীতে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা

৮০ বছরের পুরনো পুকুর ভরাট করে গড়ে উঠছে ভবন, প্রশাসন দেখেও দেখছে না!

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৮৩ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

একটি পুকুর, একটি ইতিহাস, একটি পরিবেশ – সবই এখন বিলুপ্তির পথে
কিশোরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি প্রায় ৮০ বছরের পুরনো পুকুর আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। রাতের অন্ধকারে সেই পুকুরটি চুপিচুপি মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার বাধা দিলেও ভরাটকারী প্রভাবশালীদের দাপটে কারও কিছু করার সাহস হয়নি।
আরও আশ্চর্যের বিষয়, প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘটছে এই পরিবেশ ধ্বংসের অপরাধ, অথচ দুই বছরেও নেয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে?
ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কিশোরগঞ্জ মৌজার জেএল নং ০৩৩ এবং ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মৌজার এস এ খতিয়ানভুক্ত জমির উপর অবস্থিত ঐতিহাসিক একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে।
এই পুকুরটি বহু বছর ধরে এলাকার পানি সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
কিন্তু ২০২৩ সালের শেষদিকে স্থানীয়রা হঠাৎ দেখতে পান, রাতের আঁধারে দ্রুতগতিতে পুকুরটি মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। কোনো সরকারি অনুমোদন নেই, নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র, তবুও দাপটের সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হয় এই নির্মাণকাজ।
স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রশাসনের নীরবতা
স্থানীয়রা প্রথম দিন থেকেই এর প্রতিবাদ করে আসছে। তারা বারবার বাধা দিয়েছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেছেন, এমনকি গণস্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তর – প্রত্যেককে জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর, পরিবেশ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ (অভিযোগ নং-৪৮) জমা দেন এলাকাবাসী।
এ প্রেক্ষিতে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে কিশোরগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করা হয় (স্মারক নং: ২২.০২.৪৮০০.১৪৬.৬০.০০৩.১৩.৪১৫), যেখানে পুকুরটির অবস্থা, মালিকানা ও শ্রেণি সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই চিঠির পরও দুই বছর পার হয়ে গেছে, তবু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
একটি পুকুর মানেই শুধু পানি নয়, এটি পুরো এলাকার জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
> “শহরের পুকুর হারিয়ে যেতে থাকলে তা ভবিষ্যতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পানির সংকট তৈরি করবে।”
পুকুরের আশেপাশে থাকা গাছপালা, মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীও এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এই বাস্তবতাগুলোকে পাশ কাটিয়ে একটি পরিবেশগত অপরাধ দিনের পর দিন চলতেই আছে।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নাকি প্রভাবশালীদের চাপ?
এলাকাবাসীর দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে চাপ প্রয়োগ করে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে।
তাদের প্রশ্ন,
> “সরকার যখন জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তখন স্থানীয় প্রশাসনের এই উদাসীনতা কী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে না?”
এলাকাবাসীর ৪ দফা দাবি:
১️পুকুরটির ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
২️যেসব কর্মকর্তা দায়ী, তাদের তদন্তের আওতায় আনা।
৩️অবৈধ ভবন নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ও ভাঙার নির্দেশ।
৪️ পুকুরটি পুনঃখননের মাধ্যমে পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনা।
চোখে দেখা প্রমাণ
সংযুক্ত ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়—ভরাট করা পুকুরের ওপরে ইতোমধ্যেই একটি পাঁচতলা ভবনের কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। আশেপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে, ভবিষ্যতের জন্য উদ্বিগ্ন।এলাকাবাসী আরও বলেন
শেষ কথায় বলি—এটা শুধুই একটি পুকুর নয়!
এটি একটুকরো ইতিহাস, একফোঁটা প্রকৃতি, একটি ভবিষ্যতের আশ্বাস। একে হারালে শুধু পানি নয়, হারাবো আমাদের সংস্কৃতি, পরিবেশ ও নাগরিক দায়িত্ববোধ।
প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ,
এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পুকুর বা জলাধার এভাবে বিলীন না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা গড়ে তুলুন।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD