
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে এক বিতর্কিত অভিভাবক সদস্য মনোনয়ন নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—একজন এমন ব্যক্তিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সন্তান বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতই নন।
সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপেল হাসান চৌধুরী সম্প্রতি অভিভাবক সদস্য হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অথচ তার ছেলে বর্তমানে ঢাকার বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বি.কে.এস.পি) পড়াশোনা করছে। যদিও সে আগে অষ্টম শ্রেণিতে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল, তবে কিছুদিনের মধ্যেই স্থানান্তরিত হয়ে যায় ঢাকায়।
কাগজে অভিভাবক, বাস্তবে নয়
জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে—রিপেল হাসানের সন্তানের স্কুল ত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো নথিভুক্ত হয়নি। ফলে ফর্মাল কাগজপত্র অনুযায়ী তিনি এখনো ‘অভিভাবক’ হিসেবে রয়ে গেছেন, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপরীত।
প্রধান শিক্ষক নিশ্চুপ
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবুবকর ছিদ্দিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিয়মের চরম ব্যত্যয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিষ্কার নিয়ম—কোনো বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে অভিভাবক সদস্য মনোনয়ন পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন্তানকে অবশ্যই উক্ত বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকতে হবে। এমনকি সন্তানের শ্রেণি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরও প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হয়। অথচ বাস্তবে এই নিয়ম উপেক্ষা করে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন একজনকে রাখা হয়েছে, যিনি এখন আর প্রকৃত অভিভাবক নন।
অভিভাবকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন,
“যার সন্তানই এই স্কুলে পড়ে না, তিনি কীভাবে অভিভাবক হন? এটা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু না।”
অন্য একজন জানান,
“আমরা যারা সন্তানদের এখানে পাঠাই, তাদের মতামতের মূল্য না দিয়ে বাইরের কেউ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন?”
সচেতন মহলের উদ্বেগ ও দাবি
ঘটনার তদন্ত দাবি করে সচেতন নাগরিক সমাজ ও অভিভাবকেরা বলেছেন—এই অনিয়ম শুধু একটি সদস্যের নয়, পুরো কমিটির গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা দ্রুত সদস্যপদ বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিসকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করে না, শিক্ষার পরিবেশ ও মানের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তাই এসব ঘটনায় দ্রুত এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।