
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের তিন বছর পার হলেও এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি তারা। ফলে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবনে অব্যাহত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে দখল। এতে করে চরম শ্রেণিকক্ষ সংকটে ভুগছেন কলেজের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে ২০২২ সালের ২৪ জুলাই থেকে গুরুদয়াল কলেজের ১০ তলা একাডেমিক ভবনের ৩য় থেকে ৭ম তলা পর্যন্ত ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও ভবন ছাড়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কলেজের দাবি:
গুরুদয়াল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি ১২৫তম সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়—বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কলেজ ক্যাম্পাসে আর রাখা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশনার জন্য বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি মন্ত্রণালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী:
বর্তমানে চারটি বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৪৬। চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে এই সংখ্যা ৪৫০ ছাড়াতে পারে। বিপরীতে কলেজে এইচএসসি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
অধ্যক্ষের বক্তব্য:
গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আনম মুশতাকুর রহমান বলেন—
“বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গর্বের, তাই শুরুতে আমরা ভবন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলাম। তারা বলেছিল ভাড়া দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলে যাবে। কিন্তু সেই সময়ও পেরিয়ে গেছে, ভবনটাও তারা ছাড়ছে না।”
দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের কর্মসূচি:
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। অন্যদিকে কলেজ শিক্ষার্থীরা ভবন ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ ও মিছিল করছে।