1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ঠেকাতে পুরস্কার ঘোষণা ছাত্রদলের। বিদ্যালয়ের জন্য দেওয়া ল্যাপটব চার মাস ধরে বাড়িতে ব্যবহার করেন শিক্ষিকা। রাজবাড়ীতে তিন বেসরকারি ক্লিনিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা রাবি শিক্ষার্থী ছেলের হাতে পিতা খুন । রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল, অভিযোগ অস্বীকার রাজশাহীতে অযৌক্তিক অটোভাড়া ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবিতে নাগরিক স্মারকলিপি আরএমপি’র বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার: ইয়াবা উদ্ধার, নগদ অর্থ ও ৪ মোবাইল ফোন জব্দ নড়াইলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

নরসুন্দা লেকসিটি: নির্মল মুক্তমঞ্চ এখন দখল, দূষণ আর দুঃশাসনের প্রতিচ্ছবি

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪৮ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি;

নির্মল হাওয়ায় শরীরচর্চা, শিশুদের কোলাহল আর পরিবার নিয়ে সন্ধ্যাবেলার হেঁটে বেড়ানোর এক সময়ের স্বপ্নলোক ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা লেকসিটির গুরুদয়াল মুক্তমঞ্চ। কিন্তু সেই মুক্তপ্রাণ চত্বর আজ যেন এক নৈরাজ্যের মঞ্চ। অবৈধ দোকানের দখলে হারিয়ে যাচ্ছে তার সৌন্দর্য, নিরাপত্তা আর পরিবেশ।
পর্যবেক্ষণে যা দেখা গেল—
সকালে গিয়ে দেখা গেল, হাঁটার পথজুড়ে ছড়ানো চায়ের টেবিল, ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে মুখরোচক খাবার। দর্শনার্থীদের জন্য বসানো বেঞ্চগুলো দখল করে রেখেছে দোকানিরা। কেউ কিছু না কিনে বসলে উক্তি শুনতে হচ্ছে—”অর্ডার ছাড়া বসা যাবে না।”
অন্তর্নিহিত দখলবাজির হিসাব
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব দোকান প্রতিদিন ২০০-৩০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। দোকান বসাতে এককালীন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে দোকানিদের। মাস শেষে এই অবৈধ দখলদারির পেছনে ঘুরছে কোটি টাকার গোপন লেনদেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মাথার ওপর
প্রতিটি দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে রান্নার জন্য। নেই কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। একটি স্ফুলিঙ্গই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জন্ম দিতে পারে যেকোনো সময়।
দূষণের চরমে মুক্তমঞ্চ

দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সরাসরি গুরুদয়াল কলেজ মাঠ ও নরসুন্দা নদীতে। বাতাসে দুর্গন্ধ, চারপাশে উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ। পরিবেশবিদরা বলছেন, এটি শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি।
দর্শনার্থীদের কণ্ঠে অসন্তোষ
শরীরচর্চায় আসা সোহেল মিয়া বলেন, “মুক্তমঞ্চে এখন আর নির্মলতা নেই। হাটার জায়গাও খালি পাওয়া যায় না।”
শিশুদের অভিভাবক লিপি আক্তার বলেন, “দোলনা-স্লিপার সব দোকানে ঘেরা, খেলতে দেওয়া যায় না।”

বখাটেদের উপদ্রব ও নিরাপত্তাহীনতা

সন্ধ্যার পর এই এলাকা হয়ে ওঠে উচ্ছৃঙ্খল কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থল। ছিনতাই, কটুক্তি ও নানাবিধ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কারণে পরিবার নিয়ে ঘোরার পরিবেশ প্রায় হারিয়ে গেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্তদের বক্তব্য
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, “বাজার ব্রিজ থেকে কলেজ ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করছি আমরা, অথচ জায়গাটি এখনো পৌরসভার হাতে নেই।
জেলা প্রশাসক জানান, “অবৈধ দোকানের কারণে জনদুর্ভোগ হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।”

নাম ‘মুক্তমঞ্চ’ হলেও এখন সেখানে নেই মুক্তির স্বাদ। শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠা এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ না হলে, কিশোরগঞ্জ হারাবে একটি মূল্যবান বিনোদন ও বিশ্রামকেন্দ্র। শহরের নাগরিকদের প্রশ্ন— ‘মুক্তমঞ্চ কি আর কখনো মুক্ত হবে?’

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD