
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজনীতি নয়, এখন যেন একটাই নিয়ম—যে দলে সুবিধা, সেদিকেই পাল তুলে ভেসে যাওয়া। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন শাখায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের নামে গঠিত এক ‘পকেট কমিটি’ ঘিরে উঠেছে তীব্র বিতর্ক। কারণ, যাদের দিয়ে এই কমিটি সাজানো হয়েছে, তাদের অধিকাংশই পরিচিত মুখ—কিন্তু পরিচয় ছিল আওয়ামীপন্থী ‘শ্রমিক লীগ’ ঘরনার নেতা হিসেবে।
২৩ সদস্যের এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মোঃ সাইফুল ইসলামকে, যিনি অতীতে নানা সুবিধা নিতে সরকারি দলের নেতাদের আনাগোনায় ছিলেন বলেই স্থানীয়রা জানেন। সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে আবুল হাশেমকে—এক সময় যিনি শ্রমিক লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দিতেন। আর মজার বিষয় হলো, এই কমিটিকে বরণ করতেও দেখা গেছে সেই পুরনো মুখ—শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী নেতা মেহেদী হাসানকে! ফুলের তোড়া হাতে হাস্যোজ্জ্বল সেই ছবিই এখন আলোচনা ও উপহাসের কেন্দ্রবিন্দু।
মুখোশ পরেই ‘নতুন নেতা’—আসল পরিচয় সবাই জানে!
রাজনৈতিক সচেতন জনমতের প্রশ্ন—এরা কি সত্যি জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এলেন, নাকি এটা কেবল নতুন ‘ক্ষমতার ছায়ায়’ নিজের অবস্থান গুছিয়ে নেওয়ার পুরনো খেলা?
“আগে মিছিল করতো শেখ হাসিনার নামে, এখন খালেদা জিয়ার নাম জপে”—ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ
এই কমিটি গঠনের আগে কোনো প্রকার গণশুনানি, আলোচনা বা সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নেওয়া হয়নি। অনেকেই বলছেন, এটি আসলে ‘পকেট কমিটি’—যার উদ্দেশ্য হলো কিছু সুবিধাভোগী নেতার রাজনৈতিক পরিচয় বদলে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা: “এদের দিয়ে সংগঠন চলবে না, সংগঠন ভেঙে পড়বে!”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “এই দলবদলুরা আদর্শ নয়, সুবিধার পুজারি। এক সময় যাদের ছবি ছিল সরকারি পোস্টারে, তারা আজ মুখে জাতীয়তাবাদ—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
চরম প্রশ্ন—
> “আগে ছিলেন আওয়ামী ঘরনায়, এখন বিএনপি? আদর্শ বদলালেন, নাকি অবশেষে মুখোশ খুলে দিলেন?”