
মোঃ শাহাবউদ্দিন ইসলাম আক্কেলপুর প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের পাঠানপাড়া বাজারে সেনা বাহিনীর ভুয়া সদস্য পরিচয়ে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে প্রতারণা করতে এসে ছদরুল ইসলাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করেছে। একইসঙ্গে বিয়ের ঘটক আব্দুর রহিম (৫৫) নামে অপর এক ব্যক্তিও আটক হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পাঠানপাড়া বাজারে তাদেরকে জনতা আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিনাথপুর বিশ পুকুর গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ভুয়া সেনা সদস্য ছদরুল ইসলাম ও একই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে ঘটক আব্দুর রহিম দুই জনে ঘটক ও বর সেজে ক্ষেতলাল উপজেলার হোপপীর হাট গ্রামে আফজাল হোসেনের মেয়েকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তাদের বাড়িতে আসে। কনের পরিবারের লোক জনের সন্দেহ হলে বিষয়টি দ্রুত গ্রামে জানাজানি হয়। পরবর্তীতে গ্রামবাসী বর ও ঘটককে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদেরকে উত্তম মধ্যম দিলে তারা একাধিক বিয়ে করে, অর্থ ও সরকারি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছে বলে জবানবন্দি দেয়। ইতিপূর্বে জয়পুরহাটের পাচবিবি উপজেলার ছাতিলালি গ্রাম এবং কালাই উপজেলার শাইলগুন গ্রামেও তারা প্রতারণা করে বিয়ে করেছে।
এ ঘটনায় প্রতারকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে জনতা তাকে আটক করার পর পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে থেকে ভূয়া সেনা সদস্য ছদরুল ইসলাম ও ঘটক আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল থানায় নিয়ে আসা হয়। ক্ষেতলাল থানার ওসি এস এম কামাল হোসাইন (তদন্ত) গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সেনা সদস্যের ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে বর ছদরুল ইসলাম ও ঘটক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানা এবং গাইবান্ধা জেলার গোবিন্ধগঞ্জ থানায় বিয়ে করে প্রতারণা অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া সেনা সদস্য পরিচয় দেওয়ার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এদের সঙ্গে অন্য কোন চক্র জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।