
মো শারীদ মোল্লা স্টপ রিপোর্টার, নয়া কন্ঠঃ
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশির ভাগই স্কুলের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির মডেল ছিল এফটি-৭ বিজিআই, যা চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন নির্মিত। যুদ্ধবিমানটি সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার বিমান ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয় এবং উত্তরায় ভবনে আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়।
ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হতাহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রশিক্ষণ পর্বে ব্যবহৃত এ ধরনের বিমানের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা জানান, এফটি-৭ বিজিআই হলো একটি দুই আসনবিশিষ্ট এক ইঞ্জিনচালিত প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যার মূল ভিত্তি হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিখ্যাত মিগ-২১ মডেল। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ এই মডেলের বিমান চীন থেকে আমদানি করে বলে জানা যায়।
বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত এই যুদ্ধবিমানের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি এফ-৭ বিমান রয়েছে পাকিস্তানের (প্রায় ১২০টি)। এছাড়া ইরান, ইরাক, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারসহ আরও কয়েকটি দেশেও এটি ব্যবহৃত হয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা বাংলাদেশে এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে টাঙ্গাইলে, ২০১৭ সালে কক্সবাজারে এবং ২০১৫ সালে রাজশাহীতেও প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ বলেন, ‘‘যুদ্ধবিমানের কার্যকরী সময়সীমা সাধারণত ১০–১২ বছর। তবে দীর্ঘদিন বিমানের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এখানে আসলে কী ঘটেছে, তা তদন্তেই জানা যাবে।’’
বিমান বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আইএসপিআর নিশ্চিত করেছে।