
মো শারীদ মোল্লা বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জে তিন দিনের কারফিউর পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান।
এ ঘোষণার পর থেকেই রাস্তায় দেখা যায় মানুষের আনাগোনা। খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট, কর্মস্থলে ফিরছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস দেখা গেছে।
পাচুড়িয়া এলাকার রিকশাচালক মহিবুল বলেন, “আমি রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। গত তিন দিনে সব মিলিয়ে ১০০ টাকা আয় করেছি। ধার করে চাল কিনতে হয়েছে। আজ বের হয়েছি ভালো আয়ের আশায়।”
ডিসি রোডে ফলের দোকান চালানো আরিফ মোল্লা জানান, “গ্যাঞ্জামের কারণে কারফিউতে দোকান খুলতে পারিনি। আজ সকাল ৯টায় দোকান খুলেছি।”
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে—চায়ের দোকানে জমতে শুরু করেছে আড্ডা, কাঁচাবাজারে ফিরেছে ভিড়। নবীনবাগ এলাকার গৃহিণী চুমকি জানান, “বাসায় কোনো বাজার ছিল না, তাই বাজার করতে এসেছি। পুরুষদের যেতে দিইনি, গ্রেপ্তার আতঙ্ক আছে।”
কারফিউর আগের ঘটনায় জেলার তিনটি থানায় পুলিশের করা তিন মামলায় ২ হাজার ৬০৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নিউটন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৩০৪ নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার পাঁচটি থানা এলাকায় অভিযানে ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কারফিউ শিথিল হলেও এখনো গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন অনেকেই। সাধারণ মানুষ আশাবাদী—পরিস্থিতি দ্রুতই পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।