
তৌকির আহাম্মেদ হাসু স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণ ও নির্যাতনে অভিযোগ উঠেছে ফেরদৌস আহমেদ মাসুদুল হাসান নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।এ
শিক্ষককে ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় এলাকাবাসীসহ তাকে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় শিক্ষককে শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।এঘটনায় বুধবার (২জুন) সকালে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সোবাহান নামে এক অভিভাবক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ৬২নং জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ফেরদৌস আহমেদ (মাসুদ)। তিনি ২০০৬ সালে জযনগর বিদ্যালয় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি শিশু নির্যাতন কমলমতী শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদেরকে অশালীন ভিডিও দেখান ও ছাত্রীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। এছাড়া কোন শিক্ষার্থী পড়া না পারলে ব্যাপকভাবে বেদআঘাত করতেন। এই নিয়ে ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছিলে এলাকাবাসী।সম্প্রতি গত সোমবার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে পড়া ধরেন শিক্ষক ফেরদৌস আহমেদ মাসুদ শিশু ছাত্রী পড়া না পাওয়ায় তাকে বেত দিয়ে
তলপেটের নিচে খোজা দেন।পরে ঐ ছাত্রী বিষয়টি তার মায়ের কাছে জানান।পরে বিষয়টি জানার জন্য শিক্ষার্থীর মা বিদ্যালয়ে গেলে ঐ শিক্ষক তাকে অপমান করে স্কুল থেকে বের করে দেন।এই নিয়ে পরবর্তীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে এঘটনায় সকালে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে ঐ শিক্ষককে শাস্তি ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
অভিযোগকারী অভিভাবক সেলিনা বেগম বলেন, ‘শুধু আমার মেয়ে নয়, এমন অনেক ছাত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করেন। তার চরিত্রে সমস্যা আছে। আমরা অভিভাবক তার শাস্তি চাই। যাতে আর কোন শিক্ষার্থীর সাথে অসম্ভ খারাপ আচরণ না করতে পারে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘এঘটনা শুধু একবার নয়। এর আগেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগপত্রে জানান,”ইতিপূর্বেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।আমরা এলাকাবাসী চরিত্রহীন এই শিক্ষককে বিচার চাই।
এ বিষয়ে জয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান শিক্ষক মোর্শিয়া আক্তার জাহান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই এমন ঘটনার অভিযোগ আসে। কিন্তু তিনি কেন এমন আচরণ করেন আমরা জানিনা। এব্যাপারের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানান, ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একটা অভিযোগ পেয়েছিলাম। আজও একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।