রাজশাহীতে চাঞ্চল্যকর মিম হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামী গ্রেফতার।
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী মহানগরীতে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর মিম হত্যা মামলায় র্যাব-৫ প্রধান তিন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডটি রাজশাহী শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন টিকাপাড়া কেমিকোর সামনের গলিতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘবদ্ধ ১৩ জন আসামী এবং অজ্ঞাত নামা ৮-১০ জন ব্যক্তি মিম (২৩) নামক এক যুবককে নির্মমভাবে মারপিট করে। তাদের হাতে ছিল বেসবলের ব্যাট, লোহার রড, জিআই পাইপ, চাপাতি, রামদা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র। মারধরের পর মিমকে এক ব্যাটারি চালিত রিক্সায় করে শেখেরচক ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে সেখানেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে তার ডান হাতের কব্জি ও আঙ্গুল ভেঙে ফেলা হয় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে গভীর রক্তাক্ত এবং ক্ষত সৃষ্টি হয়।
এমন মর্মান্তিক আঘাতের পর মিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার পর নিহত মিমের মা বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই সঙ্গে, ঘটনার তদন্ত শুরু করে র্যাব-৫। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ২৭ মার্চ, ২০২৫ তারিখে মামলার ৪নং আসামী রুমন (২৮) কে গ্রেফতার করা হয়। এর পরবর্তী পর্যায়ে, ৪ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন তালাইমারী এলাকায় অভিযানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রধান তিন আসামী— মোঃ শাকিল (২১), মোঃ রবিন (২৭), এবং মোঃ শুভ (২৪)— কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সকলেই শেখেরচক এলাকার বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৫ জানায়, তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রাখবে।
র্যাব আরও জানায়, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। র্যাব-৫ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হবে যে, অপরাধীরা তাদের অপরাধের শাস্তি পাবে এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সকলে একত্রিত হয়ে কাজ করে এবং সমাজে শান্তি বজায় থাকে।