1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ১ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা আরও জোরদারের নির্দেশনা রাসিক প্রশাসকের পত্নীতলায় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির সেমিনার ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত। মৎস্যখাতের উন্নয়নে বালিয়াকান্দিতে ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। শ্যামলতা প্রথম বর্ষার ভালোবাসা  চট্টগ্রাম আনোয়ারায় মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। বর্ষার প্রথম দিন আজ । কালুখালীতে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা

রাজশাহীতে জরিপে গিয়ে অবরুদ্ধ ১০ সার্ভেয়ার মুচলেকায় মুক্তি। দৈনিক নয়া কণ্ঠ

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৬০ বার পঠিত

রাজশাহীতে জরিপে গিয়ে অবরুদ্ধ ১০ সার্ভেয়ার মুচলেকায় মুক্তি।

মোঃ মুরাদ হোসেন,গোদাগাড়ী প্রতিনিধি, রাজশাহী 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে বিআরএস রেকর্ডের জন্য  জমি জরিপ করতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়েছেন দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশনের ১০ কর্মী। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) মোড়ে এলাকার লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার  নির্দেশে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। তবে দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশনের সার্ভেয়ারদের মুচলেকা দিতে হয়েছে যে, এই চরে তারা আর জরিপ করতে আসবেন না।

পদ্মা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া এই ইউনিয়নের দুটি মৌজায় এর আগে ২০০৯ সালে বিআরএস রেকর্ডের জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তখন অনেকের জমি প্রভাবশালীদের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র অসাধু সার্ভেয়ারদের ঘুষ দিয়ে অন্যের অনেক জমি নিজেদের নামে করে নিয়েছেন। খতিয়ানে তারা খাস জমিরও মালিক হয়ে গেছেন। কিছুদিন ধরে ওই একই চক্র ইউনিয়নের বাকি এলাকায় বিআরএস রেকর্ড করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছিলেন।

সম্প্রতি দিয়াড় মানিকচক ও আষাড়িয়াদহ মৌজায় দিয়ারা সেটেলমেন্টের জন্য নোটিশ জারি করা হয়। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার ছেলে গোলাম মোর্শেদ তোতা এলাকার মসজিদে মসজিদে গিয়ে বিআরএস রেকর্ডের চিঠি দিয়ে আসেন মুসল্লিদের পড়ে শোনানোর জন্য। দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশন, রাজশাহীর চার্জ অফিসারের ওই জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ ডিসেম্বর থেকে বিআরএস রেকর্ডের জন্য দিয়ারা জরিপ শুরু হবে।

এতে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন চরবাসী। এই জরিপ না করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। তাতে সাড়া না পাওয়া গেলে ১০ ডিসেম্বর সকাল থেকে তারা ইউপি মোড়ে অবস্থান নেন। ফলে সেদিন কেউ জরিপ করতে যাননি। হঠাৎ মঙ্গলবার ২৪ ডিসেম্বর জরিপের জন্য দিয়ারা অপারেশনের সার্ভেয়ার-কর্মচারী মিলিয়ে ১০ জন যান চরে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চরবাসী।

তাদের ইউপি মোড়ে ঘিরে ধরেন কয়েকশো মানুষ। খবর পেয়ে ছুটে যান ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলা। তিনি সার্ভেয়ারদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে রাখেন। বাইরে তখন বিক্ষুব্ধ মানুষ জরিপের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইউপি কার্যালয়ের বারান্দার গ্রিল ও দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন তারা।

এ সময় তখন স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলার ওপরেও চড়াও হন। তারা বলেন, ‘ঘুষ-দুর্নীতির ফাঁদ’ এই জরিপ বন্ধ করতে না পারলে চেয়ারম্যানকেই পদত্যাগ করতে হবে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইউপি চেয়ারম্যান ইউএনওকে ফোন করেন। তখন ইউএনও পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সার্ভেয়ারদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলা গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ইউএনও আবুল হায়াত আমাকে ফোন করে বলেন যে, দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশনের সার্ভেয়াররা জমি জরিপ করতে যাবেন। আমি তখন বলি, চরের মানুষ এটা চায় না। ইউএনও আমাকে বলেন, ওরা যেতে চায় যাক। তারপর দেখা যাবে। আজ সার্ভেয়াররা এলে তারা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বাধ্য হয়ে আমি ইউএনওকে ফোন করলে তিনি পুলিশ-বিজিবিকে পাঠিয়ে সার্ভেয়ারদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। তারা একটা মুচলেকা দিয়েছেন যে চরে আর কখনও জরিপ করতে আসবেন না। এই মুচলেকা জনগণের কাছেই আছে।’

ইউএনও আবুল হায়াত গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘চরের মানুষ যে জরিপের  ব্যাপারে এত ক্ষুব্ধ তা আমি জানতাম না। আমাকে দিয়ারা সেটেলমেন্ট থেকে জানায় যে তারা জরিপ করতে যাবেন। আমি সেটা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা গেলে জনগণ অবরুদ্ধ করে রাখেন। আমি বলে দিয়েছি, জনগণ যেহেতু চায় না, এই জরিপ হবে না। ঢাকায় এটা জানিয়ে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মঙ্গলবার বিকালে দিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশন, রাজশাহীর চার্জ অফিসার সলিল কিশোর চাকমাকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় । স্থানীয়দের বিরোধিতার বিষয়ে গত ১০ ডিসেম্বর তিনি  বলেছিলেন, ‘স্থানীয় ভূমি মালিকদের আপত্তি থাকলে আমরা জরিপ করতে পারব না। সেটা আমরা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’ গতবারের জরিপে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এবার সেটা হবে না। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ হচ্ছে।’

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD