
তানোরে সার বিতরণ অনিয়ম ও পাচার রোধে হট্টগোল মারপিট।
মোঃ আজিজুর রহমান,তানোর প্রতিনিধি , রাজশাহী
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নে বিসিআইসির সার ডিলার বিকাশের বিরুদ্ধে সার পাচার ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে হট্টগোল ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় উত্তেজিত কৃষকরা বিকাশের ম্যানেজার বিধানকে গণধোলাই দিয়েছেন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন।
এসময় উত্তেজিত কৃষকদের জনরোষ থেকে বাঁচতে ডিলার বিকাশ বিকেলে সার বিতরণ করবেন বলে সটকে পড়েন। আজ ২২ নভেম্বর শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় এমন ঘটনা ঘটে। এছাড়াও কৃষি অফিসের ব্লক সুপারভাইজার সুমনকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। কারণ তিনি বসে থেকে সার বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন গতকাল বৃহস্পতিবার। কিন্তু তার কোন পাত্তাই নেই। ফলে কৃষি অফিস ও ডিলারের সিন্ডিকেটের কাছে চরম জিম্মি হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
আলু চাষিরা জানান, তানোর উপজেলার কামারগাঁ বাজারে মৌসুমি ট্রেডার্স নামের বিসিআইসির সার ডিলার বিকাশ কুমার দাশ। তিনি বিগত হাসিনা সরকারের সময় থেকে দাপটের সাথে সার পাচার করে থাকেন। ওই সময় সার পাচারে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সহায়তা করে থাকত। গত বৃহস্পতিবারে বিকাশের দোকানে সার আসে। এমন খবরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সার নেয়ার জন্য কৃষকরা জড়ো হয় তার দোকানে। কিন্তু বিকাশ দোকান না খুলে কৃষি অফিসে খাতা স্বাক্ষরের নাম করে দোকান বন্ধ রাখেন। সন্ধ্যার আগে দোকান খুললেও সার বিতরণ করেননি।
উত্তেজিত কৃষকদের শান্ত করতে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সুবাস ও (বিএস) উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমনের কথামত মেমো কাটেন। শুক্রবার সকাল থেকে রাতের মেমোতে সার দেয়া শুরু করেন ডিলার বিকাশ। এরই এক পর্যায়ে প্রায় ১২/১৪ বস্তা টিএসপি ও পটাশ (এমওপি) সার মোহনপুর উপজেলার কৃষককে বাড়তি দামে দিয়ে দেন। তারা সার নিয়ে যাওয়ার সময় কামারগাঁ ব্রীজের কাছে উত্তেজিত কৃষকরা আটকে দেন।
এদিকে সার আটকানোর খবরে ডিলার বিকাশের দোকানের কর্মচারী বিধান বের হলে তাকে গণধোলাই দিয়ে দোকানের গেটে লাথি মারা শুরু করে কৃষকরা। তবে স্থানীয় বেশকিছু ব্যবসায়ীদের হস্তক্ষেপে কিছুটা শান্ত হয় উত্তেজিত জনতা।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, আমরা ভোর থেকে অপেক্ষা করছি। কিন্তু এক বস্তাও সার পাচ্ছি না। অথচ যারা পরে আসছে তারা সার নিয়ে
চলে যাচ্ছেন। আবার পার্শ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলায় পাচার করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার থেকে সার নিতে এসে পাচ্ছে না কৃষক। অথচ যারা প্রজেক্ট করছে তারা ঠিকই সার পাচ্ছে। আবার যাদের দলীয় পরিচয় বা নেতা তারাও সার পাচ্ছে। শুধু আমাদের মত প্রান্তিক কৃষকরা কোনভাবেই সার পাচ্ছে না। বিএস সুমন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তার পছন্দের কৃষককে সার দিতে মরিয়া হয়ে পড়েন।