
ধর্ষকের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন।
মোঃ রাজিবুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবাসিক হোটেলে নিয়ে জোড় পূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাকিব হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গোপনে ধারনকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভূগী নারী।
মামলা করা হলেও রাকিব হাওলাদার গ্রেপ্তার না হওয়া ও হুমকির প্রতিবাদে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুর ১টার দিকে বাইপাইল আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই ভুক্তভোগী নারী। এব্যাপারে গাজীপুর জজ কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (১ঌ৫/২৪) করেন তিনি।
অভিযুক্ত রাকিব হাওলাদার ভোলা জেলার বাংলাবাজার থানার বৈরাগী উত্তর দিঘলদী গ্রামের মোজাম্মেল হক হাওলাদার এর ছেলে। সে বর্তমানে আশুলিয়ার বাইপাইল একটি ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানার পিকআপ চালক হিসেবে কাজ করে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, এপ্রিল মাসে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে রাকিবের সাথে পরিচয় হয়। কিছু দিন পর দেখা হয় তাদের মধ্যে। গাজিপুর একটি রেষ্টুরেন্টে বসে দুজন দুজনের সাথে আলোচনা করে এবং তারা বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। রেষ্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার সময় রাকিব খাবারের ভিতরে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দেয়। রাকিব ভুক্তভূগী নারীকে বিয়ে করবে বলে নারীর অজান্তেই গাজিপুর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর ভুক্তভূগী নারি অচেতন হয়ে যায়।
রাকিব বিয়ে না করে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ভুক্তভোগীকে অচেতন অবস্থায় ছবি তুলে ও ভিডিও করে এবং ধর্ষণ করে । এরপর থেকে বার বার বিয়ের কথা বলা হলেও সে বিয়ে করবে করবে বলে বিয়ের বিষয়ে এড়িয়ে যায়। ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের কিছু ভিডিও ধারণ করে রাখে সে। সেই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে অনেক বার ধর্ষণ করে। বার বার অনুরোধ করেও ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করেনি। উল্টো যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। এছাড়া আবাসিক হোটেলে দেখা না করলে আত্মীয় স্বজনের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে বিয়ের কথা বলা হলেও সে অস্বীকৃতি জানায়। বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দিতো। কোন উপায় না পেয়ে বিভিন্ন মানুষের সাহায্য চেয়েও কোন সমাধান পায়নি ভুক্তভূগী নারী।
অবশেষে থানায় যায় এবং অভিযোগ করে। কিন্ত সেখানেও কোন সমাধান না পেয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেন। কিন্ত এখনও আসামীকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
অভিযুক্ত রাকিব মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে হুমকি দেয়।
অভিযুক্ত রাকিব হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, এই নারীকে আমি চিনি। কিন্তু তার সাথে আমার এ ধরনের কোন সম্পর্ক নাই। সে আমাকে বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে হয়রানি করছে।
ভুক্তভূগী নারী প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছে এবং অভিযুক্ত রাকিবের বিচার চায়।