
আন্দোলনকে বেগবান করতে জনসংযোগ, সমন্বয় করে কর্মসূচির ঘোষণা।
রাজশাহী ব্যুরো ঃ সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা।
এছাড়া আন্দোলনকে বেগবান করতে আগামী দুইদিন রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আন্তঃহল ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে জনসংযোগ করার কথাও জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় যে কোনো সময় মাঠে নামার হুশিয়ারিও দেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাপদ্ধতি সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারী ও স্টুডেন্টস রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী সজীব। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্য মূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে। সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলনকারীরা এই এক দফা দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাহী বিভাগ নতুন করে পরিপত্র জারি করবে। এতে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত এক দফা দাবি পূরণ হবে এবং আইনগত জটিলতা নিরসন হবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, যতদিন পর্যন্ত তাদের দাবি আদায় না হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা রাজপথে থেকে নির্বাহী বিভাগের কাছে দাবি জানিয়ে যাবেন। এই অন্যায্য কোটাপদ্ধতি সংস্কার করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সরকার প্রধান শিক্ষার্থীদের এই নায্য দাবি মেনে নিয়ে সংবিধানে বর্ণিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাবি কোটা পদ্ধতি সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমানউল্লাহ খান বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে সদুত্তর না আসা পর্যন্ত এবং নতুন পরিপত্র জারি হওয়া না পর্যন্ত সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন আঙ্গিকে কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা থামছেন না, তাদের আন্দোলন চলবে। আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য অফলাইন ও অনলাইনে আগামী দুইদিন রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আন্তঃহল ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে জনসংযোগ করা হবে। এখন রাস্তায় তাঁরা পাঁচহাজার জন আছেন, সেই সংখ্যা যেন পনেরো থেকে বিশ হাজার হয় এজন্যই তাদের এই জনসংযোগ কর্মসূচি।’ পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে কোনো সময় মাঠে নামার হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা পদ্ধতি সংস্কার আন্দোলন বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক রেজওয়ান গাজী মহারাজ ও আশিক উল্লাহ মুহিব। এসময় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাকিবুল আলম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে রুহুল কুদ্দুস সাফাত প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।