
সাভারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু।
স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ রাজিবুল ইসলাম।
ঢাকার সাভারে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আলহাজ্ব জজ মিয়ার বড় ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩৮) নিহত হয়েছেন। চার বছরের শিশু কন্যা আনায়া ও ১৭ মাসের পুত্র সন্তান আয়েসকে রেখে পরপারে পাড়ি দিলেন তিনি।
বড় ছেলের অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যুতে বাবা জজ মিয়া ও মা আম্বিয়া বেগম পাগল প্রায়। স্বামীর মৃত্যুর শোকে পাথর স্ত্রী নীপা আক্তার।মায়ের অশ্রুসিক্ত অজ্ঞান অবস্থা দেখে নিষ্পাপ চার বছরের শিশু কন্যা আনায়া বাবার কোলে উঠবে এবং বাবার কাছে যাবে বলে বারবার চিৎকার করছে।কিন্তু পৃথিবীর এই মায়া ত্যাগ করে চলে যাওয়ায় বাবা তো আর কোনদিন তার ডাকে সাড়া দিবে না। এতে পুরো বাড়িসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ৯ টা ৪০ মিনিটে ঢাকা আরিচা-মহাসড়কের নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স মার্কেট সংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আমিনুল ইসলামের।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু হাসান।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আমিনুল ইসলাম (৩৮) ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইঞ্জি: সাইদুল ইসলামের বড় ভাই এবং সাভারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আলহাজ্ব জজ মিয়া ও আম্বিয়া বেগম দম্পত্তির প্রথম সন্তান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে একটি মার্কেটে মোবাইলের শোরুম রয়েছে আমিনুল ইসলামের। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পর মোটরসাইকেল চালিয়ে সাভারের বাজার রোডের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজধানী মুখী নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স মার্কেট সংলগ্ন সড়কে পৌঁছান। এসময় পিছনে দ্রুত গতির একটি ট্রাক দেখে সাইট দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই আমিনুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ও নিহতের ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার বড় ভাই মানুষের সাথে সব সময় ভালো ব্যবহার করত। বাবার পরে পুরো পরিবারের দায়িত্বভার ছিল তার ওপর।দুইটা অবুঝ শিশু রেখে অসময়ে তার এই চলে যাওয়া আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না।ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
নিহত আমিনুল ইসলাম পারিবারিক সূত্র জানায়, সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনি মাদ্রাসা মসজিদে সোমবার সকাল ১০ টায় প্রথম জানাজা সম্পন্ন করে গ্রামের বাড়ি উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের খাগুরিয়া এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।