
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) উপজেলা প্রতিনিধিঃ
২০২৬ সালের এই বিশেষ আয়োজনে কাশিপুর ইউনিয়নের গংগারহাট বাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাত্রি কালিন চাচা-ভাতিজা হা-ডু-ডু টুর্নামেন্ট। স্থানীয় যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে নেওয়াশি হা-ডু-ডু দল এবং সন্তোষপুর হা-ডু-ডু দল। হা-ডু-ডু আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা হিসেবে পরিচিত, যা বর্তমান ডিজিটাল যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। খেলায় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং সুস্থ ধারার প্রতিযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
টুর্নামেন্টটির আয়োজন ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, তবে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির এই প্রচেষ্টাকে তারা একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। ভুক্তভোগী তরুণ সমাজ এবং স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা মনে করেন, এলাকায় খেলার মাঠের সংকট এবং বিনোদনের অভাবই যুবকদের বিপথগামী হওয়ার মূল কারণ। খেলা চলাকালীন দর্শকদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, নিয়মিত ভিত্তিতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে তরুণরা মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে সক্ষম হবে। খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, হা-ডু-ডু খেলার মতো শারীরিক পরিশ্রমের খেলায় অংশগ্রহণ তাদের মানসিক প্রশান্তি দিচ্ছে এবং সামাজিকভাবে একে অপরের সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করতে সাহায্য করছে।
টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ শাহিনুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে আয়োজক মিস্ত্রিটারী যুব সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসাহাক আলী, একরামুল হক, আবদুল মান্নান, মিজানুর রহমান এবং জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গংগারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত রায়ের সার্বিক সহযোগিতা টুর্নামেন্টটিকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বক্তারা একমত পোষণ করেছেন যে, সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া যুব সমাজকে মাদকের নেশা থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা সম্ভব নয়।
এই টুর্নামেন্টটি কেবল একটি খেলার আয়োজন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে। বর্তমান সময়ে যখন গ্রামবাংলার যুব সমাজ ইন্টারনেটের অপব্যবহার ও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তখন এ ধরনের স্থানীয় উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে কাশিপুর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের প্রভাব কমে আসবে এবং তরুণরা গঠনমূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করবে। গংগারহাট বাজারের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে যে, স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সদিচ্ছা থাকলে খুব সহজেই সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।