
মোঃ সবুজ মিয়া,স্টাফ রিপোর্টার:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-কে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে প্রতারণার অভিযোগ—“কানাডা রেড লটারি” নামে কথিত এক ফাঁদে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষকে টেনে নিচ্ছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের অবিলের বাজার পাড়ার আঃ মান্নানের ছেলে রাসেল ইসলাম।
সরেজমিনে জানা যায়, নিয়মিত ফেসবুক লাইভে এসে তিনি “বিদেশি লটারি”র প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করছেন। লাইভ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীদের সাথে কথোপকথন, টাকা নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং পরে মনগড়া বিজয়ী ঘোষণার পুরো বিষয়টি ভিডিওতে ধরা পড়ে।
শুধু তাই নয়—লাইভ শেষ হওয়ার পর তার নিজের মুখাবয়ব (ছবি) স্পষ্টভাবে সামনে আসার ঘটনাও ভিডিওতে ধরা পড়েছে, যা তার পরিচয় গোপন রাখার সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাসেলের পারিবারিক পটভূমি সাধারণ হলেও হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হয়। তাকে বিভিন্ন সময় দামী মোটরবাইকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অতীতেও অনলাইনভিত্তিক জুয়া ও ভুয়া ভিসা প্রক্রিয়াকরণের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে “কানাডা রেড লটারি” নামে নতুন কৌশলে একই ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতারক রাসেল ইসলামের পিতা আ:মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,এর আগে একবার আমার ছেলেকে কিশোরগঞ্জ থানার পুলিশ অনলাইন জুয়া ও ভুয়া ভিসা প্রতারণার জন্য তাকে ধরে নিয়ে যান। এখন ফেসবুকে ‘ইউরোপ প্রবাসি’ নামে একটি আইডি খুলে ‘কানাডা রেড লটারি’ গেমসে উইন হয়েছেন এমন কথা বলে বাংলাদেশী প্রবাসীদের কে বোকা বানিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তার ছেলের বিষয়ে বাবার নিজ জবানবন্দিতে এসবের সত্যতা পাওয়া যায়।
সচেতন মহলের মানুষদের মতে, বিদেশি লটারির নামে দেশে বসে এভাবে অর্থ সংগ্রহ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি সরাসরি প্রতারণার শামিল। আইনবিদরা বলছেন, অনুমোদনহীন লটারি পরিচালনা এবং প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ; এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-সহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে রাসেলের সাথে কথা বলতে গেলে, গণধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বাফিল ইসলাম ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রণচন্ডী ইউনিয়ন শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদশা বলেন, ভাই ও আগে থাই ও ভিসা খেলছিল এখন খেলে না আপনাদের যদি কিছু করার থাকে তাহলে করতে পারেন।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)লুৎফর রহমান এর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান থাই গেম ও ভুয়া ভিসা এবং কানাডা রেড লটারি’র সাথে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।