
নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের নিখোঁজ অটোরিকশা চালক রফিক মিয়ার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধারের চার দিন পর এবার তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদী সংলগ্ন একটি ভুট্টাখেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার
গত ২৪ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের রফিক মিয়া। এর পরদিন বিকেলে কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে তাঁর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ ও পিবিআই ইতোমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
রিপন মিয়া (৩০): ঘিওরের রাথুরা গ্রামের বাসিন্দা ও রফিকের বন্ধু।
আরমান হোসেন (২০): সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের বাসিন্দা।
সজিব হোসেন (২৫): পাছবারইল গ্রামের বাসিন্দা।
যেভাবে চলে খুনের মিশন
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মূল পরিকল্পনাকারী রিপন পেশায় নির্মাণ শ্রমিক হলেও দ্রুত টাকা উপার্জনের নেশায় বন্ধু রফিকের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রফিককে নির্জন কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে ডেকে নেন রিপন ও তাঁর সহযোগীরা।
সেখানে পৌঁছানোর পর আরমান হাতুড়ি দিয়ে রফিকের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
রফিকের মৃত্যু নিশ্চিত করতে সজিব ও আরমান হাত-পা চেপে ধরেন এবং রিপন দা দিয়ে গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।
খুনিরা মাথা ও দেহ নদীতে ফেলে দিলেও দেহটি ভেসে ওঠে। তখন তারা পুনরায় দেহটি তীরে তুলে পেট কেটে মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
উদ্ধার অভিযান
প্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ মার্চ ধামরাইয়ের কালামপুর থেকে মূল অভিযুক্ত রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ আজ সকালে আসামিদের দেখানো স্থান থেকে রফিকের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে বানিয়াজুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।