
রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
বিজয়ের ৫৪ বছরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বালিয়াকান্দিতে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক মানবিক ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও আবেগঘন পরিবেশে চলমান অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই মোঃ করম আলী নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই অনুষ্ঠানস্থলে উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন। তিনি নিজের সরকারি গাড়িতে করে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে দ্রুত বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে তাঁর সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মুক্তিযোদ্ধার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে।
কিছু সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ বোধ করলে পুনরায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর ফিরে আসায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও অতিথিবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এসময় বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর অনুভুতি ব্যাক্ত করে বলেন। “মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তার মূল কারিগর আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁদের সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবন ও সুস্থতা আমাদের কাছে যেকোনো অনুষ্ঠানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”তিনি আরও বলেন,“বিজয় দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, এটি আমাদের দায়বদ্ধতার স্মারক। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গর্ব, আমাদের প্রেরণা। তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন শুধু মঞ্চে ফুল দিয়ে নয়, প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই প্রকৃত সম্মান প্রকাশ পায়। উপজেলা প্রশাসন সবসময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।”তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,“উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত ও দায়িত্বশীল সেবার কারণে মুক্তিযোদ্ধার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এজন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
”মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করা বীর সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়—এই ঘটনাই তার বাস্তব প্রমাণ। বালিয়াকান্দিতে বিজয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই বিজয়ের চেতনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।