
আজিজুল ইসলাম পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
আজকের বাস্তবতায় সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয় — এটি সত্য প্রকাশের লড়াই। সাংবাদিকতা একসময় ছিল সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই মহান পেশা আজ প্রশ্নবিদ্ধ ও অবক্ষয়ের পথে। কারণ, সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন নিজ স্বার্থে এ পেশাকে ব্যবহার করছে। যারা কলমের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তারাই আজ অপমানিত, অবহেলিত এবং নির্যাতিত। সাংবাদিকদের প্রতি এই অবমাননা শুধু ব্যক্তির নয়, সমাজেরও অপমান।
খুলনার পাইকগাছাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে-কাঠমিস্ত্রী, চা বিক্রেতা, চিটার-বাটপার, ভুয়া চিকিৎসক ও দলকানা ব্যক্তি সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সাংবাদিকতার পরিচয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছে, কেউ আবার সংবাদপত্রের নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করছে।
এর ফলে প্রকৃত সাংবাদিকরা আজ অবমূল্যায়িত, সমাজে সাংবাদিকতার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে, আর গুজব-ভিত্তিক সংবাদে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সাংবাদিকতা কোনো চাকরি নয়, এটি এক ধরনের নৈতিক অঙ্গীকার ও সামাজিক দায়িত্ব। সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থ রক্ষাই সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু যখন ব্যক্তিস্বার্থে, দলীয় প্রভাব বা অবৈধ সুবিধার জন্য সাংবাদিকতার ব্যবহার হয়, তখন সেটি পুরো পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
প্রত্যেক পেশারই নিজস্ব মর্যাদা আছে—চা বিক্রেতা বা কাঠমিস্ত্রির পেশাও সম্মানের, কিন্তু তারা যদি সাংবাদিক সেজে সমাজে প্রভাব খাটাতে চায়, তবে সেটা শুধু হাস্যকর নয়, বরং সাংবাদিকতার প্রতি এক ভয়াবহ অবমাননা।
এখন সময় এসেছে ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার, যাতে প্রকৃত সাংবাদিকরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরে পায় এবং সমাজে সংবাদপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকতা জাতির বিবেক-আর সেই বিবেককে কলুষিত হতে দেওয়া চলবে না। আমরা যদি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে চাই, তবে সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সুতরাং দিনশেষে মুলধারার সাংবাদিকরা যদি এসব বিষয়গুলো এখনি রুখে না দেয়। তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের মর্যাদা তলানিতে নেমে যাবে- এটাই বাস্তবতা।