
ইবি প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে কুষ্টিয়ার কাস্টমমোড় পিটিআই রোডের একটি মেসে এই ঘটনা ঘটে।
এতে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজিব ইসলাম আহত হয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তার দাবি একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মনিরুল ইসলাম রোহান তাঁকে মারধর করেছেন। অন্যদিকে, রোহানও জুনিয়র কর্তৃক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এছাড়া মারামারির ঠেকাতে গিয়ে বাড়িওয়ালা, এবং ঘটনায় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুজ্জামান নয়নও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, পূজার ছুটিতে মেসের খাবারের মিল নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী একটি নিদিষ্ট সংখ্যার মিল রাখার পক্ষে মত দিলেও রোহান মিল সংখ্যা নিয়ে আপত্তি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে তা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী সজিব ইসলাম বলেন, ‘মেসের একটা বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। সে আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে দেখে নেওয়ার কথা বলে। পরে আমার রুমমেট আসলে আমরা রোহান ভাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য যাই। তখন আমার রুমমেট নয়নের সামনে আমার চোখে ঘুষি মেরে, বেধড়ক মারধর করে। আমার মাথা ও শরীরে ব্যাপক আঘাত করেছে। এছাড়া আমার হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে।’
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম রোহান বলেন, ‘মিলের বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হওয়ার পরে আমি চলে আসি। তারপর নয়ন আর সজিব আমাকে মারতে তিন তলায় আসছিল। তখন তাদের সাথে আমার ধস্তাধস্তি হয়। এর পরে তারা চলে গিয়ে আশপাশের লোকাল ছেলেপেলে ডেকে নিয়ে এসে সবাই মিলে আমার নানীর সামনে আমাকে মারে, আমার আঙুল ফেটে গেছে। মার খেয়ে আমি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেও যেতে পারিনি তাদের কারণে। তারাই বাইরের ছেলেপেলে এনে বাড়িওয়ালার সামনেই আমাকে মেরেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং বিষয়টি বিভাগের সভাপতি ও প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি। উনারা ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুজ্জামান বলেন,’আমি সকাল থেকেই তার সাথে ছিলাম সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলো পরে তাকে মেসে পাঠানো হয়েছে এবং বিভাগের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষকদের সার্বক্ষণিক তার সাথে যোগাযোগ রাখতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারবোনা।’