
মোঃ সবুজ মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ৬টি ইউনিয়নকে বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ হলরুমে মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা করা হয়।
“শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি, গ্রাম থেকেই শুরু হোক বাল্য বিবাহমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন” প্রতিপাদ্য নিয়ে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণার আয়োজন করা হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী ও শিশু চয়নিকার সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা।
এসময় বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুরেশ বাটলেট, সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশন চন্দন জেড গমেজ, বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ভিশন কিশোরগঞ্জ এপি ম্যানেজার সাগর ডি কস্তা,উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব, বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলার রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়াদী গ্রেনেট বাবু, রণচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেন, সিনিয়র ম্যানেজার অনুকুল চন্দ্র বর্মন, গ্রাম সমিতির সভাপতি আলতানুর হোসেন প্রমুখ। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশু জাকিয়া আক্তার তার অভিজ্ঞতার গল্প তুলে ধরেন। অপর দিকে শিশুশ্রম থেকে স্কুলমুখী হওয়া শিশু মোসতাকিম কষ্টকর জীবনের গল্প শুনান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, উপজেলাটি আমার, কিশোরগঞ্জটি আমার, আমি আপনি সকলেই চাই বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত কিশোরগঞ্জ হোক। আমরা সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলে কাজ করে বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত করবো এ উপজেলাকে। উপজেলাটি হবে সামাজিক ব্যাধিমুক্ত মানবিক মডেল উপজেলা। তাই আমি উপজেলাটিকে শিশুশ্রম ও বাল্য বিবাহমুক্ত ঘোষণা করলাম। এসময় সকলেই বাল্য বিবাহকে না বলুন লাল কার্ড তুলে ধরেন। আর নয় শিশুশ্রম প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলাটিকে শিশুশ্রমমুক্ত ও ৬টি ইউনিয়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।