
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতির শীতল হাওরে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর স্বাদ পেলেন ২২ বছর বয়সী বনান্ত ইসলাম। কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচরের করচবন হাওরে গোসলের সময় হঠাৎ পানিতে ডুবে যান তিনি।
বনান্ত ইসলাম বগুড়ার কান্দারবাজার এলাকার বাসিন্দা ও সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শনিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে পাগলা মসজিদ ঘুরে আসার পর ছাতিরচর হাওরে সাঁতার কাটছিলেন সবাই। হঠাৎ বনান্ত গভীর পানিতে তলিয়ে যান। তার বন্ধুরা তাকে খুঁজতে না পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মাঝিরা এসে উদ্ধার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়া হলেও বনান্তকে বাঁচানো যায়নি।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে এবং পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় লাশ হস্তান্তর করা হবে।
নিকলীর করচবন হাওর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও নিরাপত্তার অভাবে এসব দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটে। লাইফ জ্যাকেট না থাকা, সাঁতার শেখার অভাব এবং সঠিক গাইডের অনুপস্থিতি মূল কারণ বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন।
একজন মাঝি বলেন, “হাওরের গভীরতা ও স্রোত বুঝতে না পারায় অনেকেই বিপদে পড়েন। পর্যটকদের সতর্ক হতে হবে, প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।”
বনান্ত ইসলামের এই আকস্মিক মৃত্যু তার পরিবার, বন্ধু ও এলাকার মানুষকে শোকাহত করেছে। এই ঘটনাটি আবারও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পর্যটনকালে নিরাপত্তার গুরুত্ব।
প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণ আনন্দদায়ক হলেও সতর্কতা ও নিরাপত্তা অবলম্বন না করলে প্রাণহানির মতো বিপদ এড়ানো যায় না। বনান্ত ইসলামের মৃত্যু যেন আমাদের জন্য একটি ব্যথাদায়ক সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়।