
আল-আমিন স্টাফ রিপোর্টারঃ
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেলে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার খৈলকুড়া এলাকায় শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।আহতদের স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,‘আকাশ বিকাশ’ পরিবহনের বাসটি শেরপুর থেকে ঝিনাইগাতীর দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৩০-৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। পথিমধ্যে খৈলকুড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি রাস্তার পাশে একটি বড় পুকুরে উল্টে পড়ে যায়।পানিতে ডুবে থাকা বাসটি থেকে যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং উদ্ধার কাজে যোগ দেন।ঘটনার পর ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.আশরাফুল আলম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আল আমিন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন।প্রাথমিকভাবে আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।বাসটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করছে। নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে পুকুরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,দুর্ঘটনাস্থলটি সড়কের এক বাঁক এবং পুকুরটি সড়কের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সামান্য অসতর্কতা বা গতির তারতম্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যেতে পারে।এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে অনেকে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত সহযোগিতা না করলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে জানান।ফায়ার সার্ভিস জানায়, বাসটি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে ছিল।তারা প্রথমে উপরের জানালা ভেঙে কিছু যাত্রীকে বের করে আনেন। পরে ডুবুরি দল এসে নিচের অংশে তল্লাশি চালায়।
এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল।তিনি বলেন,”আমরা এখন প্রাথমিকভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে যথাযথ তদন্ত করা হবে।”এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ শিশুটিকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।পুকুরের গভীরতা ও কাদামাটির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।দুর্ঘটনার খবরে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে এসে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এদিকে যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেন, বাসটি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে দ্রুতগতিতে চলছিল। এছাড়া চালক মোবাইলে কথা বলছিলেন বলেও অনেকে জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও যাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা জানা সম্ভব হচ্ছে না।তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য,ঝিনাইগাতী-শেরপুর সড়কে আগেও বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।এলাকাবাসীর দাবি, সড়কের বেশ কিছু জায়গায় বাঁক বেশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাদের আহ্বান, সড়ক সংস্কার ও ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হোক।