1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার, অন্যরা পলাতক। ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ঠেকাতে পুরস্কার ঘোষণা ছাত্রদলের। বিদ্যালয়ের জন্য দেওয়া ল্যাপটব চার মাস ধরে বাড়িতে ব্যবহার করেন শিক্ষিকা। রাজবাড়ীতে তিন বেসরকারি ক্লিনিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা রাবি শিক্ষার্থী ছেলের হাতে পিতা খুন । রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল, অভিযোগ অস্বীকার রাজশাহীতে অযৌক্তিক অটোভাড়া ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবিতে নাগরিক স্মারকলিপি আরএমপি’র বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার: ইয়াবা উদ্ধার, নগদ অর্থ ও ৪ মোবাইল ফোন জব্দ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্তৃত্বের নামে অরাজকতা! জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশ উপেক্ষা করে পাঁচ শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখলেন প্রধান শিক্ষক!!

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৩ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমানে এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংকটে ভুগছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আবুবকর ছিদ্দিক তার একক সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করেছেন। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে তিনি পাঁচজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে দিচ্ছেন না, যার ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অমান্য

জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জের জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুন নাহার মাকছুদা স্বাক্ষরিত একটি স্মারকে (স্মারক নং- ০৩.২৫.৪৮০০.০০০.০৪.০০৫.১৮-২০২৫/৩১৩) খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক মোঃ জুনায়েদ হোসেন ও মোঃ মাহমুদুল ইসলাম মাসুদ-এর পাঠদানে অনুমতি প্রদানের নির্দেশ দেন। নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

কিন্তু প্রধান শিক্ষক সেই নির্দেশ অমান্য করে শুধু তাদের পাঠদান বন্ধ রেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং বকেয়া বেতনও আটকে রেখেছেন। এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রশাসনিক সীমালঙ্ঘন এবং শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

একজন ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন,

> “আমি নিয়ম মেনে নিয়োগ পেয়েছি, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে অনুমোদনও এসেছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাকে ক্লাসে যেতে দিচ্ছেন না। এমনকি আমার প্রাপ্য বেতনও আটকে রেখেছেন।”
শুধু এই দুই শিক্ষক নন, প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে আরও তিনজন পূর্ণকালীন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা, শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত

প্রধান শিক্ষকের এসব স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। অভিভাবকদের ভাষ্যে, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

> “বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান না থাকলে আমাদের সন্তানরা কীভাবে ভালো ফল করবে? প্রধান শিক্ষক যেন নিজের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। এটা তো কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা নয়, এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।”
প্রশাসনিকভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ
শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিক্ষক পাঠদানে বাধা দেওয়া ও অর্থ আটকে রাখা প্রশাসনিক অপরাধ। এটি দায়িত্বে থাকা একজন প্রধান শিক্ষকের জন্য চরম অনৈতিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ। তার এমন স্বৈরাচারী আচরণ বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিঃ

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রতিনিধি, সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা জরুরি তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলেছেন,
> যে প্রধান শিক্ষক সরকারি নির্দেশ মানেন না, শিক্ষকদের হয়রানি করেন, তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও নষ্ট হবে।”

তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে এ ধরনের একনায়কতান্ত্রিক আচরণ বরদাস্ত করা যায় না।

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক যখন নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন, তখন তা শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো সমাজের জন্যই ক্ষতিকর। আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান সংকট অবসানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD