
আল-আমিন স্টাফ রিপোর্টারঃ
একদিন ভিক্ষা না করলে খাওন জোটে না। এখন আর আগের মতো হাঁটতে পারি না, খুব কষ্ট হয়। কেউ যদি চারডে ভাত ৩ বেলা দিত, তাইলে আর গাঁও ঘুইরা ভিক্ষা করতাম না। শরীরে অনেক অসুখ, তাও কষ্ট কইরা চলাফেরা করি। এভাবেই জীবনের কষ্টগাথা বলছিলেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের গেরামারা গ্রামের ৯৫ বছর বয়সী তারা বেগম।
তাঁর পাশে বসা একই বয়সী জুহুরা বেগম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, কেউ খোঁজে না, নাই-বা খুঁজল। আল্লাহ যেই দিন নিবে, ওইদিন এই কষ্ট শেষ হইব। তাও চাই, মরার আগে দুইবেলা পেটভরে খাইতে পারি। এখন তো ভিক্ষা করতে গেলে খুব কস্ট হয়, পা খুব ব্যাথা করে।
সরেজমিনে দেখা যায় তারা বেগম ও জুহুরা বেগম। বয়স প্রায় ৯৫ বছর। কারও কাছে মা, কারও কাছে দাদি কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী শুধু ক্ষুধা আর কষ্ট।
পেটের দায়ে প্রতিদিন ভর দুপুরে বের হন তাঁরা। কারো দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন নিঃশব্দে, কারো উঠানে বসে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কেউ এক মুঠো চাল দেন, কেউ কিছুই না বলে ফিরে যান। তবুও অভিমান নেই, কারণ তাঁরা জানেন ক্ষুধার চেয়ে বড় কিছু নেই এই বয়সে।
এই দুই বৃদ্ধার জীবন যেন অবহেলা আর কষ্টের প্রতিচ্ছবি। সহায়-সম্পদ বলতে আছে শুধু টিনের এক টুকরা ঘড়। জীবন চলে মানুষের দয়ার উপর নির্ভর করে। হাঁটতে পারেন না ভালোভাবে, চোখে ঝাপসা দেখে। কিন্তু তবুও লাঠি ভর করে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যানএক মুঠো চাল বা ২ টাকার আশায়।
তারা বেগম জানান, বয়স্ক ভাতা পাই, মাসে ৬০০ টেহা। এই টেহা দিয়া ভাত কিনমু, না ওষুধ। আমগর ও ইচ্ছা হয় এক বেলা ভালা তরকারী দিয়ে পেট ভরে খাইতে।
জুহুরা বেগম বলেন, হাসপাতালে গেলে কয়, ওষুধ বাইর থেইকা লাগবো। কিন্তু বাইর থেইকা কিনার টেহা কই।
স্থানীয়রা বলেন, এই দুই বৃদ্ধা বছরের পর বছর ধরে একই কষ্টে দিন পার করছেন। বর্ষা হোক কিংবা রোদ, তাঁদের দেখা যায় রাস্তায় বসে থাকতে কিংবা কারও দরজায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে। কখনো কেউ চাল দেয়, কখনো খালি হাতে ফিরে আসেন।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা এই দুই জন অনেক বছর ধইরা এমনি কষ্টে আছে। কেউ খোঁজ নেয় না। আমরা যা পারি ততটুকু দেই, কিন্তু সবসময় তো পারি না। সরকার যদি একটু সাহায্য করত, অন্তত দুই বেলা ভাত আর ওষুধ পাইলে এই মানুষগুলা আর ভিক্ষা করতে হইত না। খুবই কষ্ট লাগে এমন দশা দেখে
এ বিষয়ে কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হামিদ উল্লাহ তালুকদার বলেন, আমি তাদের সেই ভাবে চিনিনা, আমি আজ অবগত হয়েছি, পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে পক্ষে থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো হবে।