1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ত্রানের চাল হরিলুট। দৈনিক নয়া কণ্ঠ

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৪
  • ২২৩ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ত্রানের চাল হরিলুট।

রাজশাহী ব্যুরো ঃচাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত  ত্রাণের চাল হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা অনুযায়ী  বরাদ্দকৃত ত্রাণ (চাল)  বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা/এতিম খানায়) অধ্যায়নরত দুস্থ ও অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের আহার্য বাবদ ব্যতীত অন্য কোন খাতে ব্যায়/বিতরণ করা যাবে না। এমন নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না কেউ। সম্প্রতি বিষয়গুলোর অনুসন্ধানে গিয়ে  এ তথ্য জানা যায়। অনুসন্ধানে গিয়ে পার্বতীপুর ইউনিয়নে দারুল উলুম হামিউস সুন্নাহ নূরানী ও ক্বওমী মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হলে তারা বলেন আমরা চাউলের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু যারা বরাদ্দ আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছে তারা আমাদের চাউল না দিয়ে  ৩৩ হাজার টাকা দিয়েছে। চাউলটা পেলে আমার অনেক উপকার হতো। আমার মাদ্রাসায় অনেক অসহায় দুস্থ ছাত্র-ছাত্রী আছে তাদের আহারের জন্য আমাদের অনেক চাউল ক্রয় করতে হয়।

একই ইউনিয়নের হালিমা তালিমুল কুরআন নুরানী ও ক্বওমী মাদ্রাসা এতিমখানার একজন শিক্ষক বলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে দেয়া বরাদ্দ ২ টন চাউলের পরিবর্তে ২৭ হাজার টাকা দিয়েছে। বরাদ্দের ২ টন চাউলের কথা জিজ্ঞেস করলে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া  হবে না বলে হুমকি দেয়া হয় । এভাবে তারা ২১ টির মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানে চাল আত্মসাৎ করে।  অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে মুক্তারুল ও সেরাজুলসহ বিভিন্ন  চিহ্নিত দালাল চক্র এ অপকর্মের সাথে জড়িত বলে জানা যায়। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারী বরাদ্দ নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত চাউল প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে নামমাত্র কিছু টাকা দিয়ে চাল আত্মসাৎ করে । প্রতিষ্ঠানগুলো নায্য পাওনা চাইতে গেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন হুমকি ধামকি ।

এদিকে বোয়ালিয়া ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম প্রি-ক্যাডেট নূরানী মাদ্রাসায় খোঁজ নিতে গেলে প্রকল্প কমিটির সভাপতি  বলেন তারা  আমাকে ২ টন চাউলের পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। ত্রানের আবেদন  দেওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি মুক্তারুলকে আবেদন দেয়ার কথা বলেন।

একই ইউনিয়নের গৌরিপুর নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসা হতে জানা যায় ,  ২ টন চাউলের বরাদ্দের  বিপরীতে তারা ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। এ টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে দিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে  বলেন বরাদ্দের জন্য আবেদন ইউএনও অফিস ও জেলায় জমা হয়। তারপর আমার কাছে আসে যাচাই-বাছাই করার জন্য তারপর টা যাচাই বাছাই করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কে বরাদ্দ দেওয়া হয় । পরে সে বরাদ্দ  উঠিয়ে নিয়ে কি করলো সেটা আমাদের আর জানার বিষয় না।

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন আমার কাছে ডিও লেটার নিয়ে আসে।  ফরওয়ার্ডিং এ সই নিয়ে মাল দিয়ে দেওয়া হয় এবং কাকে চাল দিবে সেটা আমাকে বলা হয় না ।ফরওয়ার্ডিং এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন।চাল তো প্রতিষ্ঠানে খাবে না তখন অন্য ডিলারের কাছে বিক্রি করতে হয় যে ডিলারের নামে ফরওয়ার্ডিং দেবে সে ডিলারকে দিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেরাজুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণ নাসের হুমকি প্রদান করে।সে হুমকির প্রেক্ষিতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণমাধ্যমকে বলেন এমন অনিয়ম অভিযোগ থাকলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জেলা প্রশাসকের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মীর আল মুনসুর সোয়াইব বলেন আমি লিখিত কিংবা মৌখিক কোন অভিযোগ পায়নি। সাংবাদিকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে আরো জানতে জেলা প্রশাসক ও জেলা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ মুঠোফোনে বলেন চাউলের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই, যদি এরকম হয়ে থাকে অভিযোগ আসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD