
নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় চিঠি হাতে পুলিশ সদরদপ্তরে এক নারী
রাজশাহী ব্যুরো ঃ এক নারী নিজের ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনকারী নারীর নাম মোসা. ইসরাত জাহান (৩০)। তিনি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকরি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তিনি পুলিশের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চান, কারণ তিনি সম্প্রতি একাধিকবার হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাই রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) সদরদপ্তরে আবেদন পত্র জমা দেন তিনি।
ইসরাত জাহান জানিয়েছেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক এবং শারীরিকভাবে অত্যাচারিত হচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) সদরদপ্তরের পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন কর্মজীবী নারী ইসরাত জাহান। এসময় তিনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলামের কাছে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কারণ বর্ণনা করে নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং তার নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। সাক্ষাত শেষে আবেদনপত্রটি তিনি পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সাধারণ শাখায় জমা দেন।
এদিকে, গত রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভূক্তভোগী এ নারী নিজের নিরাপত্তাহীনতার কারণ উল্লেখপূর্বক নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। যার নং ৯০১। ট্র্যাকিং নং ৪খএতঠ৪। জিডি’র কপিও পুলিশ কমিশনারকে দেয়া আবেদনপত্রে যুক্ত করেছেন তিনি।
পুলিশ কমিশনারকে প্রদানকৃত আবেদনপত্রের অনুলিপি তিনি রেজিস্ট্রি ডাক যোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সদয় অবগতির জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একান্ত সচিব (উপসচিব), বাংলাদেশ পুলিশের মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ’র উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এন্ড এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক এবং ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস’র সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বরাবর প্রেরণ করেছেন।
ইসরাত জাহানের করা সাধারণ ডায়েরী (জিডি) ও আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে যে, রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল শান্তিবাগ এলাকার মৃত. শাহাজাহান আলী ও মোসা. রশিদা খাতুনের ছেলে মো. সোহরাব হোসেন শুভর সাথে ২০২১ সালে ভূক্তভোগী নারী ইসরাতের বিবাহ হয়। তবে সেই বিবাহের পর থেকেই অভিযুক্ত শুভর দ্বারা ভুক্তভোগী নারী ইসরাত পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হত। বিয়ের মাত্র একবছর ৯ মাসের মাথায় তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তবে বিবাহ বিচ্ছেদের পরও অভিযুক্তের শারীরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তি পায়নি ভুক্তভোগী নারী। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাকে অপমান-অপদস্থ ও সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করা। এমনকি তার চরিত্র হরণও শুরু করে। একাধিকবার রাস্তায় প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করাও হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী আরো অভিযোগ করেছেন, নানা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে দশ মাস যাবৎ প্রতিমাসে নূন্যতম একবার ভুক্তভোগীর সাথে অবৈধভাবে বিবাহ বর্হিভূত শারীরিক সম্পর্ক করেছে অভিযুক্ত। গত ০৪ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগীকে অভিযুক্ত মারধর করেছেন। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে তার কর্মস্থলে গিয়ে মারধর করেন এবং প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ক্ষতিসাধন করবে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে সহ নানা ধরনের হুমকি ধামকি প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে দিচ্ছে এবং তাকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়াচ্ছে এমতাবস্থায় যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।